বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের নির্বাচন নিয়ে চলমান আইনগত জটিলতা ও গঠনতন্ত্রের বিধান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ‘মেগাস্টার উজ্জ্বল–লিপু পরিষদ’। পরিষদটির দাবি, বিচারাধীন বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি এবং গঠনতন্ত্রের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করেই নির্বাচন আয়োজন করা উচিত।
রোববার এক সাংবাদিক সম্মেলনে পরিষদের পক্ষ থেকে এসব কথা জানানো হয়। এ সময় নির্বাচন-সংক্রান্ত আইনগত বিষয়গুলো তুলে ধরেন উজ্জ্বল–লিপু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী কামাল মোহাম্মদ কিবরিয়া লিপু।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সমিতির গঠনতন্ত্রে কার্যনির্বাহী কমিটিতে ধারাবাহিক মেয়াদসংক্রান্ত বিধান রয়েছে। বর্তমানে ট্রেড অর্গানাইজেশন আইন ২০২৫-এর ১৮(ক) ধারায় পরপর দুই মেয়াদ কার্যনির্বাহী কমিটিতে থাকা ব্যক্তিকে এক মেয়াদ বিরতি দিয়ে পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিধান রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
পরিষদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, খোরশেদ আলম খসরু ও শামসুল আলম ২০০৫–০৭, ২০০৮–১০ ও ২০১১–১৩ মেয়াদে পরপর তিন মেয়াদ কার্যনির্বাহী কমিটিতে নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে তাদের প্রার্থিতা নিয়ে নির্বাচন কমিশন, আপিল কমিশন ও আদালতে একাধিক আইনি প্রক্রিয়া হয়।
প্রেস নোটে আরও দাবি করা হয়, ২০১৪–১৬ মেয়াদের নির্বাচনে তাদের মনোনয়ন নির্বাচন কমিশন বাতিল করলেও পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতে রিটের মাধ্যমে খোরশেদ আলম খসরু প্রার্থিতা ফিরে পান। এ নিয়ে পরবর্তীতে নাছির উদ্দীন আহমেদ উচ্চ আদালতে রিট করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ধারাবাহিক ছয় বছর নির্বাচিত থাকার পর পরবর্তী দুই বছর নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারার বিষয়ে আদালতের একটি আদেশের কথা উল্লেখ করা হয়।
পরিষদটির অভিযোগ, পরবর্তী ২০১৯–২১ মেয়াদের নির্বাচনেও খোরশেদ আলম খসরু ও শামসুল আলম অংশ নেন এবং নির্বাচিত হন। পরে এ বিষয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের পর কমিটি বাতিল করা হয়েছিল বলে প্রেস নোটে দাবি করা হয়।
২০২২–২৪ মেয়াদের নির্বাচন প্রসঙ্গে উজ্জ্বল–লিপু পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই নির্বাচনে খোরশেদ আলম খসরু ও শামসুল আলমের মনোনয়ন প্রথমে নির্বাচন কমিশন ও পরে আপিল কমিশন বাতিল করে। পরবর্তীতে তারা এফবিসিসিআই ট্রাইব্যুনাল ও উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। এ সময় নির্বাচনকে ঘিরে একাধিক মামলা ও আইনি জটিলতা তৈরি হয় বলেও দাবি করা হয়।
চলতি ২০২৬–২৮ মেয়াদের নির্বাচনেও প্রথমে নির্বাচন কমিশন খোরশেদ আলম খসরু ও শামসুল আলমের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করে। পরে আপিল কমিশন তাদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে বলে জানায় উজ্জ্বল–লিপু পরিষদ।
পরিষদের দাবি, আপিল কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল এফবিসিসিআই ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন। সেখানে বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়ায় তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। তার দায়ের করা আবেদন নম্বর ১০৮৫৬-এর শুনানি শেষে উচ্চ আদালত পূর্ববর্তী মামলাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দুই মাসের জন্য নির্বাচন স্থগিত রাখার অন্তর্বর্তী আদেশ দেন বলে প্রেস নোটে উল্লেখ করা হয়েছে।
উজ্জ্বল–লিপু পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা কোনো ব্যক্তি বা প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি। তাদের দাবি, একটি আইনসম্মত, স্বচ্ছ, গঠনতন্ত্রসম্মত ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
তাদের চারটি প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে—গঠনতন্ত্রের যথাযথ প্রয়োগ, নির্বাচন-সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্তের সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি প্রকাশ, নির্বাচন ও আপিল কমিশনের সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা এবং পূর্ববর্তী মামলাগুলোর নিষ্পত্তির মাধ্যমে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন।
প্রেস নোটের শেষাংশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচন বাতিল ও ভোটাধিকার হরণের বিষয়ে ‘মিথ্যা তথ্য-উপাত্ত’ প্রচারের অভিযোগও তোলা হয়। একই সঙ্গে উজ্জ্বল–লিপু পরিষদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়—অতীতের বিভিন্ন মেয়াদে নির্বাচন ও ভোটাধিকার নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সেসবের জন্য দায়ী কে—আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, নাকি খোরশেদ আলম খসরু?


















