মোবাশ্বের নেছারী, কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা :
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এবার দৃশ্যমান অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের কাজ অল্প কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
এরই মধ্যে এ লক্ষ্যে টেকনিক্যাল কমিটি কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকেও নেওয়া হচ্ছে পরামর্শ।
শনিবার দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার নদ-নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে চিলমারী বন্দর এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সময় লাগবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তিস্তা একটি বড় প্রকল্প। একটি প্রকল্প একদিনে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আমাদের সরকারের বয়স মাত্র পাঁচ মাস। আমাদের কিছুদিন সময় দিন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু করব।’
তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য টেকনিক্যাল কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। প্রকল্পটি আরও কার্যকর ও বাস্তবসম্মত করতে বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। এসব পরামর্শ ও কারিগরি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
কুড়িগ্রামের নদীভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনের কথা জানিয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিলমারী বন্দরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনের চিত্র দেখা হয়েছে। নদীভাঙন স্থায়ীভাবে রোধ ও বাঁধ নির্মাণে কুড়িগ্রামে দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘কোনো মানুষের ঘরবাড়ি, হাট-বাজার, মসজিদ, মন্দির কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন নদীতে বিলীন হয়ে না যায়, সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে।’
প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনতে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করা হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথায় কী ধরনের কাজ জরুরি, তা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দল নয়, গুরুত্ব পাবে ভাঙনকবলিত মানুষের প্রয়োজন নদীভাঙন রোধে কোনো ধরনের দলীয় বিবেচনা করা হবে না বলে জানান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘ভাঙনকবলিত মানুষের পাশে সরকার রয়েছে।’ কুড়িগ্রামের প্রায় ১০০টি ভাঙনকবলিত এলাকায় ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে। যেখানে আরও কাজের প্রয়োজন রয়েছে, সেসব এলাকাতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীভাঙনে মানুষের বসতভিটা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনপদ রক্ষায় জরুরি প্রতিরোধের পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের দিকেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
কুড়িগ্রাম সফর শেষে গাইবান্ধায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান দুটি প্রকল্প পরিদর্শন করবেন বলে জানান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজার রহমান, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান, সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব ও শফিকুল ইসলাম বেবুসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


















