প্রতিবেদক: শাহ আলম সরকার
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত গেজেটভুক্ত, উপমহাদেশের সর্বকনিষ্ঠ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার রিয়াজুল রিজু, পরিচালক বদিউল আলম খোকন এবং মনজুরুল ইসলাম মেঘকে আজীবনের জন্য সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি।

সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় গৃহীত এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্রাঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। সংশ্লিষ্টদের একাংশের অভিযোগ, বহিষ্কারের আগে অভিযুক্তদের কোনো লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়নি, অভিযোগের বিস্তারিত জানানো হয়নি এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেওয়া হয়নি।
সমালোচকদের মতে, কোনো পেশাজীবী বা সৃজনশীল সংগঠনে এত বড় শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ন্যূনতম প্রক্রিয়াগত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁদের ভাষ্য, অভিযোগ সম্পর্কে লিখিতভাবে অবহিত করা, জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং নিরপেক্ষ শুনানির আয়োজন—এসবই একটি স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার অপরিহার্য অংশ।
এদিকে পরিচালক সমিতির বর্তমান কমিটির বৈধতা নিয়েও আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে এই প্রেক্ষাপটে আজীবন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আরও বেশি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সমালোচকদের দাবি, পরিচালক সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাঁদের প্রশ্ন—
- বহিষ্কৃত তিন পরিচালকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী?
- তাঁদের কাছে কোনো কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ পাঠানো হয়েছিল কি?
- অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল কি?
- কোনো তদন্ত কমিটি বা শুনানির আয়োজন করা হয়েছিল কি?
- গঠনতন্ত্রের কোন ধারা অনুযায়ী আজীবন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে?
তাঁদের মতে, এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নথি ও ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হলে সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা সম্পর্কে জনমনে থাকা সংশয় দূর হতে পারে।
বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় রিয়াজুল রিজু বলেন, “আমি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গেজেটভুক্ত আহত একজন চলচ্চিত্র পরিচালক। পরিচালক সমিতির উচিত ছিল আমার অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে আজীবন সম্মাননা দেওয়া। কিন্তু তারা উল্টো আমাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে। তবে এতে আমার ব্যক্তিগতভাবে কিছুই যায় আসে না। আমি মনে করি, স্বৈরাচারের দোসরদের কাছ থেকে দূরে থাকাই ভালো। তাতে অন্তত মানসিক শান্তি পাওয়া যাবে।”
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত হলেও তা যদি কোনো সদস্যের সাংগঠনিক অধিকার স্থায়ীভাবে ক্ষুণ্ন করে, তাহলে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ জানানো ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না থাকলে, এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে পারে।
তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সমিতির পক্ষ থেকে অভিযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ও এর আইনি ভিত্তি সম্পর্কে ব্যাখ্যা এলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।















