মো. কাজল ইসলাম, কুড়িগ্রাম (সদর) সংবাদদাতা :
বুকজুড়ে ওপেন হার্ট সার্জারির ক্ষতচিহ্ন। চিকিৎসকের কড়া নির্দেশ—পাঁচ কেজির বেশি ওজন বহন করা যাবে না। কিন্তু জীবন ও পরিবারের দায় কাঁধে নিয়ে সেই নিষেধাজ্ঞাকেই যেন প্রতিদিন চ্যালেঞ্জ করছেন কুড়িগ্রামের সোহেল রানা। নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর ব্যতিক্রমী উদ্যোগে তিনি এখন পরিচিত ‘কপি ম্যান সোহেল’ নামে।
প্রতিদিন সকালে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস এবং বিকেলে ডিসি পার্কে কাঁধে প্রায় ১০ থেকে ১২ কেজি ওজনের ফ্লাক্স ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে ঘুরে ঘুরে কপি বিক্রি করেন তিনি। প্রতিষ্ঠিত কোনো দোকান নয়, খোলা আকাশের নিচেই চলছে তার ছোট্ট ব্যবসা।
দুই বছর আগে পরিবারের ঋণ নিয়ে সোহেলের ওপেন হার্ট সার্জারি করানো হয়। এরপর কাজের খোঁজ করেও ব্যর্থ হন তিনি। শারীরিক অবস্থার কথা শুনে অনেকেই কাজ দিতে রাজি হননি। তবে হতাশ না হয়ে স্বল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করেন কপি বিক্রির উদ্যোগ।
সোহেলের ব্যবসার বিশেষ আকর্ষণ হলো, প্রতিটি কপির কাপে ক্রেতার নামের প্রথম অক্ষর লিখে পরিবেশন করা। এই ছোট্ট ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ক্রেতাদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছে।
সোহেল রানা কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের দক্ষিণ ষাট গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তাজউদ্দীন ও সাহিদা বেগমের দ্বিতীয় সন্তান। দীর্ঘদিন হৃদরোগে ভোগার পর পরিবারের ঋণ নিয়ে তার ওপেন হার্ট সার্জারি করা হয়।
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রাকিব বলেন, “সোহেল ভাই অল্প সময়েই সবার কাছে পরিচিত হয়েছেন। কেউ যদি তাকে একটি ছোট দোকান করে দিতে সহায়তা করেন, তাহলে তাকে আর ভারী সরঞ্জাম কাঁধে নিয়ে ঘুরতে হবে না।”
সোহেল রানা বলেন, “রংপুরে আগে এই উদ্যোগ নিয়েছিলাম, কিন্তু সফল হইনি। পরে কুড়িগ্রামে এসে আবার শুরু করি। আলহামদুলিল্লাহ, এখন ভালোই চলছে। ডাক্তার ভারী জিনিস বহন করতে নিষেধ করেছেন, কিন্তু পরিবারের দায়িত্বের কারণে কাজ করে যেতে হচ্ছে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।”
জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে হার না মেনে আত্মসম্মান নিয়ে এগিয়ে চলা সোহেলের এই সংগ্রাম ইতোমধ্যেই কুড়িগ্রামজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই তার উদ্যোগের প্রশংসা করছেন এবং পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।












