নতুন বছরের প্রারম্ভে আবেগ, বেদনা ও আত্মমর্যাদার গভীর শিল্পরূপ নিয়ে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে মিউজিকাল ফিল্ম “ফিরতে তোমায় সাধবো না আর”। এটি শুধু একটি গান নয়—ভালোবাসার ভাঙন পেরিয়ে নিজেকে ফিরে পাওয়ার এক নীরব কিন্তু দৃপ্ত উচ্চারণ।
সাউন্ডটেকের ব্যানারে নির্মিত এই সংগীতনির্ভর চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন সেলিম রেজা। তার নির্মাণশৈলীতে প্রতিটি ফ্রেমে ধরা পড়েছে অনুভূতির সূক্ষ্মতা, যেখানে সংলাপের চেয়ে বেশি কথা বলে নীরবতা, চোখের ভাষা এবং বিষণ্ন এক সৌন্দর্য।
গানটির গীত রচনা করেছেন মোঃ শফিকুল ইসলাম ভুইয়া। তার হৃদয়স্পর্শী শব্দবুননে গানটি হয়ে উঠেছে এক আহত প্রেমিক আত্মার অন্তর্গত ভাষ্য, যেখানে করুণতার বদলে উচ্চারিত হয়েছে আত্মমর্যাদার দৃঢ় অবস্থান। গানটির সুরারোপ করেছেন মিল্টন খন্দকার এবং কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় শিল্পী মনির খান। সুর ও কণ্ঠের এই মেলবন্ধনে গানটি পেয়েছে গভীর আবেগঘন এক শিল্পরূপ, যা শ্রোতার হৃদয়ে অনুরণন তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংগীতায়োজনে ছিলেন পিয়াল। তার সূক্ষ্ম কারুকাজ গানটিকে দিয়েছে পূর্ণাঙ্গ সুরেলা পরিসর। গানটির দৃশ্যরূপায়ণে অভিনয় করেছেন সিয়াম মৃধা ও ফাইজা ইসলাম। তাদের অভিনয়ে ভালোবাসার ভাঙন, অভিমান ও আত্মমর্যাদার নীরব শক্তি অত্যন্ত সংযতভাবে ফুটে উঠেছে।
চিত্রগ্রহণে ছিলেন শিউল বাবু এবং সম্পাদনা ও কালার গ্রেডিং করেছেন টি.ডি দীপক। তাদের দক্ষতায় পুরো নির্মাণ পেয়েছে একটি শিল্পিত পরিপূর্ণতা।
গীতিকবি শফিকুল ইসলাম ভুইয়া বলেন, “এটি কোনো ভাঙা হৃদয়ের বিলাপ নয়; বরং প্রতারিত ভালোবাসার বিরুদ্ধে এক নীরব কিন্তু দৃঢ় প্রতিবাদ।”
সুরকার মিল্টন খন্দকার বলেন, “গানের কথার গভীরতা আমাকে সুর নির্মাণে অনুপ্রাণিত করেছে।”
কণ্ঠশিল্পী মনির খান বলেন, “এই গানটিতে আমি ভালোবাসা ও আত্মমর্যাদার দ্বন্দ্বকে অনুভব করেছি। শ্রোতারা নিজেদের গল্প এখানে খুঁজে পাবেন।”
পরিচালক সেলিম রেজা বলেন, “আমরা চেয়েছি অনুভূতির সূক্ষ্ম স্তরগুলোকে দৃশ্যের মাধ্যমে প্রকাশ করতে। এটি শুধু প্রেমের গল্প নয়, বরং নিজেকে ফিরে পাওয়ার এক অন্তর্গত যাত্রা।”
মডেল সিয়াম মৃধা জানান, “চরিত্রটি ধারণ করতে গিয়ে নিজের ভেতরেও এক ধরনের নীরব পরিবর্তন অনুভব করেছি।” ফাইজা ইসলাম বলেন, “এই কাজটি আমার কাছে আবেগ ও বাস্তবতার এক অনন্য মিশ্রণ।”
সাউন্ডটেকের কর্ণধার Soundtek–এর সুলতান মাহমুদ বাবুল বলেন, “আমরা এমন কাজ করতে চাই, যা শুধু বিনোদন নয়—মানুষের অনুভূতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।”
সবশেষে বলা যায়, নববর্ষকে কেন্দ্র করে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা এই মিউজিকাল ফিল্মটি সুর, শব্দ ও দৃশ্যের এক অনন্য মেলবন্ধনে পরিণত হতে চলেছে, যা দর্শক-শ্রোতার হৃদয়ে দীর্ঘদিন অনুরণিত হবে।


















