মোবাশ্বের নেছারী, কুড়িগ্রাম, সংবাদদাতা :
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার ছাড়া বাংলাদেশে কোনো টেকসই রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব নয়। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে পুরোনো কাঠামোয় দেশ পরিচালনার চেষ্টা করা হলে জনগণ আবারও রাজপথে জবাব দেবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিকেলে কুড়িগ্রাম শহরের শাপলা চত্বর ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা এনসিপি আয়োজিত ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেলে শহরের কলেজ মোড়ের স্বাধীনতার বিজয়স্তম্ভ চত্বর থেকে একটি পদযাত্রা বের হয়। পদযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
জনসভায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে এবং জনগণের করের অর্থ রাজনৈতিক দলের স্বার্থে ব্যবহৃত হলে জনগণ তা মেনে নেবে না। আবু সাঈদের রক্তের ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার ছাড়া বাংলাদেশের কোনো ভবিষ্যৎ নেই।”
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বিএনপির গদি মোটা হয়ে গেছে। এখন জনগণকে গোনার সময় তাদের নেই। কিন্তু জনগণকে উপেক্ষা করে কোনো রাজনৈতিক শক্তি টিকে থাকতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের আগে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। সংবিধান সংস্কার ছাড়া গণভোটের আকাঙ্ক্ষা পূরণ সম্ভব নয়।”
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, ‘২৪-এর আন্দোলনে নিহতদের হত্যাকাণ্ডের বিচার বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “আবু সাঈদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম। সেই স্বপ্ন ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা চলছে এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা।
কর্মসূচিতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা। এতে জেলা ও উপজেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

















