অবশেষে গুঞ্জনই সত্যি হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী শনিবার বা রোববার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করবেন বলে পরিবার সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন। এরপর ৮ অক্টোবর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ গ্রহণ করে।
অন্তর্বর্তী সরকারের শুরু থেকেই রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবি তোলে এনসিপি, জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। এ দাবিতে বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভও অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় রাষ্ট্রপতিকে বঙ্গভবনের বাইরে খুব কমই জনসমক্ষে দেখা গেছে।
তবে সম্ভাব্য সাংবিধানিক সংকটের আশঙ্কায় বিএনপি তখন রাষ্ট্রপতির অপসারণের দাবির সঙ্গে একমত হয়নি। পরবর্তীতে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনেও তিনি ভাষণ দেন।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে।


















