কাউকে না জানিয়ে হঠাৎ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ পরিদর্শনে গিয়ে হাজারো দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে মুগ্ধ হয়েছেন সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জাদুঘর পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি এর ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ফারুকী জানান, দিনের শেষ দিকে অল্প সময়ের জন্য তিনি জাদুঘরে গিয়েছিলেন। সেখানে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী দেখে তার ‘মন ভরে গেছে’। অনেক দর্শক তার কাছে এসে দোয়া করেছেন, কথা বলেছেন এবং জাদুঘরে আরও কী কী সংযোজন করা যায়, সে বিষয়ে পরামর্শও দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে ফারুকী লেখেন, ‘কাউকে কিছু না জানাইয়া আজকে জুলাই যাদুঘরে গেছিলাম শেষ কয়েক মিনিটের জন্য। গিয়ে মনটা ভরে গেলো হাজার হাজার মানুষ দেখে। তাদের অনেকেই কাছে এসে দোয়া করেছেন, কথা বলেছেন, আর কী কী করা যায় এই যাদুঘরে পরামর্শ দিয়েছেন।’
জাদুঘর থেকে বের হওয়ার আগে শহীদ আহনাফের মা ও তার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হওয়ার কথাও জানান ফারুকী। ওই সাক্ষাৎ তাকে বিশেষভাবে নাড়া দিয়েছে বলে তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। ফারুকী বলেন, ‘জুলাই কী এটা দেখি অনেক সো-কল্ড কালচারাল এলিটরা বুঝতে চান না। এই জনতা কিন্তু ঠিকই বোঝে জুলাই কী ছিল। জুলাই এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বও এই জনতাই রক্ষা করবে।’
তবে জাদুঘরের পরিচালনাগত কিছু ঘাটতি নিয়েও কথা বলেছেন এই নির্মাতা। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দর্শনার্থীদের সঠিকভাবে ইতিহাস ও নিদর্শন সম্পর্কে জানানোর জন্য দ্রুত পর্যাপ্ত স্টাফ ও এক্সপ্লেইনার নিয়োগ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও প্রয়োজনীয় কর্মী দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ফারুকীর পোস্টে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার মাত্র তিন ঘণ্টায় জাদুঘরটি পরিদর্শন করেছেন ১৪ হাজার ৮০০ দর্শনার্থী।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ, দলিল ও নিদর্শন প্রদর্শনের লক্ষ্যে নির্মিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য গত ৬ আগস্ট উন্মুক্ত করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তার তত্ত্বাবধানেই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ নির্মাণের কাজ শুরু হয় এবং তার দায়িত্বকালেই এর বড় অংশের কাজ সম্পন্ন হয়।


















