টাঙ্গাইলজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র লোডশেডিং। জেলার বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ৩৭০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ২২৩ মেগাওয়াট। ফলে দিন-রাত দফায় দফায় লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানার উৎপাদন, তাঁতশিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।
প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা। রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক ঘুম। পাশাপাশি পানি সরবরাহ, পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজকর্মেও বিঘ্ন ঘটছে।
সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেলায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) আওতায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ১১০ মেগাওয়াট। অন্যদিকে, পল্লী বিদ্যুতের আওতায় চাহিদা ২০০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে ১১৩ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহের ঘাটতির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এক থেকে দুই ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মিল-ইন্ডাস্ট্রি ও বড় বড় কলকারখানা। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। উৎপাদন সচল রাখতে অনেক প্রতিষ্ঠান ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করছে। এতে জ্বালানি খরচ বাড়ার পাশাপাশি বেড়ে যাচ্ছে উৎপাদন ব্যয়। ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি জেনারেটর খরচ বহন করতে না পেরে লোকসানের মুখে পড়ছে।
এটিএম লুঙ্গি ফেব্রিক্স ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীলিপ কুমার বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, আর উৎপাদন বন্ধ মানেই লোকসান। দিনে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যেও। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক সময় ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ছে মার্কেট ও দোকানপাট। একই সঙ্গে জেলার ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পেও নেমেছে ধস। দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তাঁত চালানো বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি সময়মতো অর্ডার সরবরাহ করতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। কর্মহীন হয়ে পড়ছেন অনেক তাঁতশ্রমিক।
একই পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে জেলার পোলট্রি খামারগুলোতেও। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যানসহ প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চালানো যাচ্ছে না। তীব্র গরমে খামারে মুরগি মারা যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালাতে গিয়ে ক্ষুদ্র খামারিদের বাড়তি জ্বালানি খরচ গুনতে হচ্ছে।
টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, পল্লী বিদ্যুতের আওতায় জেলার চাহিদা ২০০ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ১১৩ মেগাওয়াট। ঘাটতির কারণে ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে।
টাঙ্গাইল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওবাইদুল ইসলাম বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়ায় সাময়িক লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
চাহিদার তুলনায় ১৪৭ মেগাওয়াট ঘাটতিতে টাঙ্গাইলের বিদ্যুৎ সরবরাহ। ফলে তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ মানুষ, ব্যাহত হচ্ছে শিল্প ও তাঁতশিল্পের উৎপাদন।


















