সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষক বিউটি পালকে নিয়ে চলমান আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, সাংবাদিক, চিত্রনাট্যকার এবং ‘জুলাই যোদ্ধা’ (গেজেটভুক্ত) রিয়াজুল রিজু।
ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে রিয়াজুল রিজু বলেন, ৬০, ৭০, ৮০ ও ৯০-এর দশকে নারীদের এমন পোশাক পরা খুবই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে বাংলাদেশে এমন কী পরিবর্তন হলো যে, একজন শিক্ষক গানের সঙ্গে রিল বানানোর কারণে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।
পোস্টে তিনি লেখেন, “শিক্ষা হোক আনন্দের মাঝে। যার মেধা যেদিকে ধাবিত হয়, সেদিকেই তাকে পৃষ্ঠপোষকতা করা উচিত। শুধুমাত্র রাষ্ট্রদ্রোহিতা বা দেশবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড না হলেই হলো। অন্যের জীবনের চালচলন কেমন হবে, সেই সিদ্ধান্ত দেওয়ার আপনি কে?” তিনি আরও লেখেন, “বিউটি পালরা এগিয়ে আসুক, সমাজের হাল ধরুক এবং আনন্দের মধ্য দিয়ে আমাদের আগামীর প্রজন্মের মাঝে শিক্ষা বিতরণ করুক।”

রিয়াজুল রিজু আরও দাবি করেন, বাংলাদেশের বেশিরভাগ শিক্ষক ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানের সঙ্গে রিল তৈরি করে বিউটি পালকে অভিনব উপায়ে সমর্থন জানিয়েছেন।
এদিকে, চলমান বিতর্ক নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছেন পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি পাল। তিনি বলেন, “এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। মানুষের কি ব্যক্তিগত জীবন থাকতে পারে না?”
বিউটি পাল বলেন, একজন শিক্ষক যখন একটি জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হন, তখন নিশ্চয়ই ধরে নিতে হয় তিনি তার যোগ্যতা, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও কর্মের মাধ্যমে এই সম্মান অর্জন করেছেন। তিনি আরও বলেন, “আমি একজন শিক্ষক, কিন্তু তার আগে আমি একজন মানুষ, একজন নারী। আমারও একটি মন আছে, আনন্দ আছে, ভালো লাগা আছে। নিজের মতো করে বাঁচার অধিকারও আমার রয়েছে।”


















