বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নাম ব্যবহার করে তিন স্বনামধন্য পরিচালককে ‘আজীবন বহিষ্কার’ করা হয়েছে। এমন মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচারের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে এবং মানহানির অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার এবং গেজেটভুক্ত আহত জুলাই যোদ্ধা রিয়াজুল রিজু।

জানা গেছে, তিনি ইতোমধ্যে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির তিন সদস্যের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পাশাপাশি পরিচালক গাজী মাহবুবের কাছে ১০০ কোটি টাকার মানহানির কারণ দর্শানোর আইনি নোটিশও পাঠিয়েছেন।
গত ৪ জুলাই পরিচালক গাজী মাহবুব গণমাধ্যমে দাবি করেন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি তিন পরিচালককে আজীবন বহিষ্কার করেছে। বহিষ্কৃতদের তালিকায় রয়েছেন সমিতির সাবেক মহাসচিব বদিউল আলম খোকন, পরিচালক ও প্রযোজক মনজুরুল ইসলাম মেঘ এবং পরিচালক রিয়াজুল রিজু।
তবে এই বহিষ্কারাদেশকে ‘অবৈধ, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে রিয়াজুল রিজু গত ১৯ জুলাই গাজী মাহবুবকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে ১০০ কোটি টাকার মানহানির কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।
নোটিশে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৫ দিনেও চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির পক্ষ থেকে তাকে কোনো বহিষ্কারাদেশ, কারণ দর্শানোর নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। অথচ গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রচার করে তার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রিয়াজুল রিজু টাঙ্গাইল সদর থানায় সমিতির সাবেক মহাসচিব শাহীন সুমন (৬০), সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন কবির টুটুল (৪৩) এবং সদস্য গাজী মাহবুবের (৫৮) বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
রিয়াজুল রিজুর অভিযোগ, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিতে একটি সিন্ডিকেট জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল করে অগণতান্ত্রিকভাবে সংগঠন পরিচালনা করছে। তার দাবি, বর্তমান কমিটির বৈধতা নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকায় আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তাদের কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনি এখতিয়ার নেই।
তিনি বলেন, “আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বহিষ্কারের সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। এতে আমার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের দাবির পক্ষে বৈধ নথি দেখাতে না পারলে আমি ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করব।”
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরিচালক সমিতির বর্তমান কমিটির বৈধতা নিয়ে উচ্চ আদালতে একাধিক মামলা চলমান। এর আগে গত বছরের নির্বাচন ঘিরেও ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এছাড়া জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বিএফডিসিতে আওয়ামী লীগের পক্ষে মানববন্ধন করার অভিযোগে শাহীন সুমনের নেতৃত্বাধীন অংশের বিরুদ্ধে সমালোচনা তৈরি হয়েছিল।
অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বর্তমান কমিটি অগঠনতান্ত্রিকভাবে সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই সদস্যদের বহিষ্কারের মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
এদিকে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এবং যথাযথ সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বহিষ্কারের দাবি প্রচারের ঘটনায় চলচ্চিত্রাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২১ জুলাই ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে পৃথক তিনটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।


















