শাহাদাত হোসেন, জবি
আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব। দীর্ঘদিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় সংগঠনটিতে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও মাঠপর্যায়ে সক্রিয়, ত্যাগী ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতাদের মূল্যায়নের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এ প্রেক্ষাপটে মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি পদে আলোচনায় উঠে এসেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান আসলামের নাম।
দলীয় সূত্র জানায়, গত ৯ মে কেন্দ্রীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের প্রায় ৯০০ শীর্ষ নেতার সঙ্গে মতবিনিময় করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে তিনি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করার নির্দেশনা দেন এবং বিভিন্ন ইউনিটে নতুন কমিটি গঠনের ইঙ্গিত দেন। এরপর থেকেই ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবদলের নেতৃত্বে নতুন ও তরুণ মুখ আনার আলোচনা শুরু হয়।
এদিকে সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীরা নিজেদের সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা ও ত্যাগের বিষয়গুলো তুলে ধরে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। তবে কোনো ধরনের প্রকাশ্য তদবির ছাড়াই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, রাজপথের সক্রিয় নেতৃত্ব ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন আসাদুজ্জামান আসলাম।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আসলাম। ২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তিনি ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হন। গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও পড়াশোনা, সংগঠন ও ব্যক্তিগত জীবিকার প্রয়োজন একসঙ্গে সামাল দিয়ে রাজনীতিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
তার নেতৃত্বে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল একটি সুসংগঠিত ইউনিটে পরিণত হয়। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনার পর যখন বিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলো চাপে পড়ে, তখনও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সক্রিয় ছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনেও ইউনিটটির সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে ৪ আগস্ট সিএমএম আদালত ঘেরাও কর্মসূচিতে তার সামনের সারির ভূমিকা নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচিত হয়।
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর পুরান ঢাকায় বিভিন্ন পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও প্রশংসিত হয়। দলীয় নেতাদের দাবি, আসলামের নির্দেশনায় নেতাকর্মীরা রাতভর বিভিন্ন মণ্ডপে অবস্থান নেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আসাদুজ্জামান আসলাম। ছাত্রলীগের হামলায় আহত হওয়া, পুলিশের লাঠিচার্জে কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাও রয়েছে তার রাজনৈতিক জীবনে। সর্বশেষ তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে মাঠপর্যায়ে পরীক্ষিত, শিক্ষিত ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতৃত্ব প্রয়োজন। এ কারণে আসাদুজ্জামান আসলামের নাম ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
সভাপতি পদপ্রত্যাশী মো. আসাদুজ্জামান আসলাম বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলকে নেতৃত্ব দিয়েছি। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছি এবং প্রতিটি কর্মসূচিতে সামনের সারিতে থেকেছি।
তিনি আরও বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যদি আমাকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের দায়িত্ব দেন, তাহলে পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করবো। একই সঙ্গে দলের রাজনৈতিক নির্দেশনা বাস্তবায়নে যুবদলকে আরও শক্তিশালী ও গণমুখী সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে চেষ্টা করবো।

















