মোবাশ্বের নেছারী, কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা :
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের নিরাশির পাথার এলাকায় উলিপুর–চিলমারী সড়কের পাশে রহস্যজনক অবস্থায় হামিদুল ইসলাম (২৮) ওরফে বাবু নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মরদেহের পাশেই চাবি লাগানো অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিল তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে নিরাশির পাথার এলাকার ফ্রেন্ডশিপ অফিসসংলগ্ন সড়কের পাশে মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে উলিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহত হামিদুল ইসলাম উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের পশ্চিম সাদুল্যা (সাদুল্যা পাকার মাথা/সরকারপাড়া) এলাকার বাসিন্দা এবং জোবেদ আলী ড্রাইভারের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে বাবু নামে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, মরদেহের চোখ, মুখ ও বাম কানে রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়া বাম পায়ের বুড়ো আঙুলেও জখমের চিহ্ন দেখা যায়। ঘটনাস্থলের অদূরেই তার মোটরসাইকেলটি চাবিসহ দাঁড়িয়ে থাকায় মৃত্যুর ঘটনাটি আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে তদন্ত শুরু করলেও নিহতের পরিবারের দাবি, হামিদুল ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি সড়ক দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
এদিকে রহস্যজনক এ মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।


















