মোবাশ্বের নেছারী, কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা :
জীবিকার তাগিদে চরের পাট কাটতে যেতে একটি হাঁড়িকে ভাসমান অবলম্বন বানিয়ে উত্তাল ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ি দিচ্ছিলেন ৮০ বছরের লিয়াকত মণ্ডল। কিন্তু মাঝনদীতে প্রবল স্রোতের কাছে হার মানে সেই শেষ ভরসাটুকু।
হাঁড়িতে পানি ঢুকে ডুবে গেলে মুহূর্তেই নদীর গভীরে তলিয়ে যান তিনি। এরপর থেকেই নিখোঁজ বৃদ্ধকে ঘিরে চলছে মরিয়া তল্লাশি, আর নদীর তীরে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের হাটিথানা পুটিমারী এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ লিয়াকত মণ্ডল ওই এলাকার পুটিমারী গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষার ফুলেফেঁপে ওঠা ব্রহ্মপুত্রের তীব্র স্রোত উপেক্ষা করেই তিনি চরের জমিতে পাট কাটতে নদী পার হচ্ছিলেন। নিরাপদ নৌযানের অভাবে একটি হাঁড়িকে ভাসমান সহায় হিসেবে ব্যবহার করেন। কিন্তু নদীর মাঝামাঝি পৌঁছাতেই স্রোতের চাপে হাঁড়িটিতে পানি ঢুকে যায়। একপর্যায়ে সেটি ডুবে গেলে ভারসাম্য হারিয়ে লিয়াকত মণ্ডলও পানির নিচে তলিয়ে যান। এরপর আর তাকে দেখা যায়নি।
খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় শতাধিক মানুষ জাল নিয়ে নদীতে নেমে উদ্ধার চেষ্টা চালান। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তল্লাশি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজের নাতি লিয়ন মণ্ডল বলেন, “দাদাকে উদ্ধারে আমরা নিজেরাই জাল দিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। এখনও কোনো সন্ধান পাইনি।”
চিলমারী ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটার তন্ময় কুমার বর্মণ জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার কার্যক্রমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রংপুর থেকে বিশেষ ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে আসছে। তারা পৌঁছালে নদীতে আনুষ্ঠানিক উদ্ধার অভিযান শুরু হবে।
চিলমারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তল্লাশি অব্যাহত আছে। ডুবুরি দল যোগ দিলে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলে নিরাপদ নৌযানের সংকট দীর্ঘদিনের। জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ জীবন হাতে নিয়ে উত্তাল নদী পারাপার করেন। বর্ষা মৌসুমে এই ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। লিয়াকত মণ্ডলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা আবারও চরাঞ্চলের মানুষের অনিরাপদ জীবনযাত্রার নির্মম বাস্তবতাকে সামনে এনে দিয়েছে।
















