নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জননিরাপত্তা রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাঠ প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ সচিবালয়ে আয়োজিত এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্বকালে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশ দেন। বৈঠকে উপস্থিত সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজরদারি বাড়াতে এবং অপরাধমূলক ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর সব ধরনের কর্মসূচি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার কথা বলা হয়েছে।
পাঁচ দিন আগে ভারতের নির্বাসনে থাকা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনার কথা জানান। এর প্রেক্ষিতেই সরকারের পক্ষ থেকে এই কঠোর বার্তা এল।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে, কারণ তিনি আদালতের রায়ে দণ্ডিত। তবে তিনি আত্মসমর্পণ করতে পারবেন কি না বা আপিল করার সুযোগ পাবেন কি না, তা সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল বর্তমান ছাত্র আন্দোলন, সড়ক অবরোধ এবং বিভিন্ন সমাবেশকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট ২০২৪ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর, নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দমন-পীড়নের দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। এর আগে অক্টোবর ২০২৪-এ ছাত্রলীগ এবং মে ২০২৫-এ আওয়ামী লীগ ও এর সব অঙ্গ সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এছাড়া নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধনও স্থগিত করেছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মন্ত্রীদের নিজ নিজ এলাকায় পরিদর্শন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার নির্দেশ দেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য বলা হয়েছে। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম নিয়মিত মনিটর করে যেকোনো সমস্যা দ্রুত সরকারকে জানানোর নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, এখন থেকে প্রতি বছর ১ নভেম্বর ‘জাতীয় যুব দিবস’ পালন করা হবে। এর আগে গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১২ আগস্ট আন্তর্জাতিক যুব দিবসের সাথে জাতীয় যুব দিবস যৌথভাবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী আগের নিয়মে দিবসটি পালনের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
সূত্র : ডেইলি স্টার


















