ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি অভিযানের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি জানান।
এর আগে সোমবার দিল্লিতে সিজেপির ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি ঘিরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন এবং অনেককে আটক করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের শিক্ষা ও পরীক্ষাব্যবস্থার অনিয়ম নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে কথা বলায় শিক্ষার্থীদের দমন করতে সরকার পুলিশকে ব্যবহার করছে।
তিনি বলেন, “দেশের সবাই জানে শিক্ষা ও পরীক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা শুধু তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নীরব।”
পুলিশের পদক্ষেপকে ‘ভারতের সংস্কৃতিবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে রাহুল বলেন, “দেশের তরুণদের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাই ছিল তাদের ভবিষ্যতের ভরসা, সেটিও এখন সংকটের মুখে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রভাব বেড়েছে এবং সরকার শিক্ষার্থীদের চেয়ে শিল্পপতিদের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
সংসদে শিক্ষার্থীদের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন রাহুল। তার দাবি, স্পিকারকে এ বিষয়ে আলোচনার অনুরোধ জানানো হলেও জানানো হয়েছে, সরকারের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে বিতর্ক সম্ভব নয়।
পরে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও দলের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপালের সঙ্গে দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে গিয়ে আহত বিক্ষোভকারীদের খোঁজ নেন রাহুল গান্ধী।


















