ফুটবল মাঠে আর্জেন্টিনার নান্দনিক শৈলী যেমন সমর্থকদের মুগ্ধ করেছে, তেমনি ইতিহাসে জন্ম দিয়েছে নানা বিতর্কেরও। ‘যেকোনো মূল্যে জয়’ মানসিকতার কারণে লাতিন আমেরিকার এই পরাশক্তিকে ঘিরে রয়েছে বেশ কিছু আলোচিত ঘটনা।
ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ কিংবা ১৯৭৮ বিশ্বকাপে পেরুর বিপক্ষে বিতর্কিত জয়—আর্জেন্টাইন ফুটবলের ইতিহাসে এমন অনেক অধ্যায় রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিতর্কগুলোর একটি হলো ১৯৯০ বিশ্বকাপের ‘হলি ওয়াটার কেলেঙ্কারি’।
১৯৯০ সালের ২৪ জুন, ইতালির তুরিনে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ব্রাজিল ছিল ফেভারিট, অন্যদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা লড়াই করছিল ইনজুরি ও অফ-ফর্মের সঙ্গে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে ব্রাজিল। একের পর এক আক্রমণ করেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। ব্রাজিলের ডিফেন্ডার ব্রাঙ্কো তখন দুর্দান্তভাবে আটকে রেখেছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনাকে।
দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনার এক খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়লে খেলা কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে। এরপরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৮১ মিনিটে ম্যারাডোনার অসাধারণ পাসে ব্রাঙ্কোকে কাটিয়ে গোল করেন ক্লদিও ক্যানিজিয়া। সেই এক গোলেই জয় পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ শেষে ব্রাঙ্কো অভিযোগ করেন, বিরতির সময় আর্জেন্টিনার ফিজিও মিগুয়েল ডি লরেঞ্জোর দেওয়া পানি পান করার পর থেকেই তিনি অসুস্থ বোধ করেছিলেন। তবে তখন বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি।
ঘটনার ১৫ বছর পর, ২০০৫ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনা এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ব্রাঙ্কোর পানির বোতলে ঘুমের ওষুধ মেশানো হয়েছিল। তার এই বক্তব্যে বিশ্ব ফুটবলে নতুন করে বিতর্কের ঝড় ওঠে।
ব্রাজিলের তৎকালীন কোচ সেবাস্তিও ল্যাজারনি ঘটনাটিকে ‘নোংরা কৌশল’ বলে আখ্যা দেন এবং শাস্তির দাবি জানান। ব্রাজিলের ফুটবলার বেবেতোও দাবি করেন, ফিজিও লরেঞ্জো পরে বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। তবে আর্জেন্টিনার কোচ কার্লোস বিলার্দো ও লরেঞ্জো এই অভিযোগ অস্বীকার করেন।
দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেনি। তবে ফুটবল ইতিহাসে ১৯৯০ সালের সেই ম্যাচ আজও ‘হলি ওয়াটার কেলেঙ্কারি’ নামে আলোচিত হয়ে আছে—যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বিতর্ক আর বিশ্বকাপের নাটকীয়তা একসঙ্গে মিশে গেছে।

















