“লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পবিত্র মিনা উপত্যকা। সোমবার ‘ইয়াওমুত তারবিয়াহ’ বা তারবিয়াহ দিবসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ১৫ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লি মিনায় সমবেত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা।
জিলহজ মাসের ৮ তারিখ ভোর থেকেই হজের নিয়তে ইহরাম বেঁধে হাজিরা দলে দলে মিনার পথে যাত্রা করেন। কেউ বাসে, কেউ পায়ে হেঁটে মক্কার কাবা শরিফ থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এই উপত্যকায় পৌঁছান। আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে লাখো মানুষের এই যাত্রা পুরো মিনাজুড়ে সৃষ্টি করেছে এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবহ।
হাজিরা নিজ নিজ নির্ধারিত তাঁবুতে অবস্থান করে ইবাদত-বন্দেগি, জিকির, দোয়া ও তওবা-ইস্তিগফারে সময় অতিবাহিত করছেন। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে তারা সোমবার দিন ও রাত মিনায় অবস্থান করবেন।
নিয়ম অনুযায়ী মিনায় হাজিরা জোহর, আসর, মাগরিব, এশা এবং পরদিন ফজরের নামাজ আদায় করবেন। হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রোকন ‘আরাফার ময়দানে অবস্থান’-এর পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে এই সময়টুকু তারা আত্মশুদ্ধি ও প্রার্থনায় কাটাচ্ছেন।
লাখো মুসল্লির এই মহাসম্মিলন নির্বিঘ্ন করতে সৌদি আরব সরকার ব্যাপক নিরাপত্তা ও সেবামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। চিকিৎসা, খাদ্য সরবরাহ ও যাতায়াত নিশ্চিত করতে মিনা ও আশপাশের এলাকায় হাজার হাজার কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন।
সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাজিদের আবাসন ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা আগেই সম্পন্ন করা হয়েছে। তাঁবুগুলোতে হাজিদের আরামদায়ক অবস্থান নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে।
আগামীকাল মঙ্গলবার (৯ জিলহজ) সূর্যোদয়ের পর হাজিরা মিনার উদ্দেশ্যে বিদায় নিয়ে ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানের দিকে রওনা হবেন। হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে তারা সেখানে দিনভর অবস্থান করবেন। পরে মুজদালিফায় গিয়ে রাত যাপন ও শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন।
এ বছর বিদেশ থেকে আগত প্রায় ১৫ লাখ হজযাত্রীর পাশাপাশি সৌদি আরব-এর অভ্যন্তরীণ হাজার হাজার মুসল্লিও হজে অংশ নিয়েছেন। গত রোববার মক্কায় পৌঁছানো হাজিরা কাবা শরিফে তাওয়াফে কুদুম সম্পন্ন করে মিনার পথে যাত্রা করেন।


















