মো. সোহাগ হেসেন, শার্শা (যশোর) সংবাদদাতা :
যশোরের শার্শায় বানিজ্যিকভাবে জমে উঠেছে কচুমুখি বেচাকেনার পাইকারী হাট। দুপুর গড়াতেই মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু হয় হাটটিতে। বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে শতশত বস্তাভর্তি কচুমুখি নিয়ে এ হাটে হাজির হন কৃষকেরা।
একদিকে চলে দরদাম, অন্যদিকে ট্রাকে মালামাল তোলার ব্যস্ততা। সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা যেন রূপ নেয় কৃষিপণ্যের এক বিশাল বাণিজ্যকেন্দ্রে। সম্প্রতি এমনই চিত্র দেখা গেছে, যশোরের শার্শা উপজেলার নিজামপুর বাসাবাড়ি বাজারের কচুমুখির হাটে।
স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছে বাসাবাড়ি এখন কচুমুখির অন্যতম নির্ভরযোগ্য পাইকারি হাট। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও পার্শ্ববর্তী ঝিকরগাছা উপজেলা থেকে কৃষকেরা কচুমমুখি নিয়ে বিক্রি করতে আসে এ হাটে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কচুমুখি কিনে নিয়ে যায়। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য ছাড়াই কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

হাটে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে সারি সারি সাজানো রয়েছে কচুমুখি ভর্তি বস্তা। কেউ দাম বলছেন, কেউ বস্তার মুখ খুলে কচুমুখির নমুনা দেখছেন। আবার কেউ বিক্রি শেষ করে নতুন ক্রেতার অপেক্ষায় বসে আছেন। বাজারের প্রতিটি কোণজুড়ে চলছে কেনাবেচার ব্যস্ততা।
কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, এক সময় কচুমুখি বিক্রির জন্য বিভিন্ন বাজারে ঘুরতে হতো। এখন বাসাবাড়ি হাটেই পাইকাররা এসে কচুমুখি কিনে নিয়ে যান। এতে সময় ও খরচ দুটোই কমেছে।
ঝিকরগাছা উপজেলার নির্বাসখোলা এলাকার কৃষক শওকত আলী জানান, এই হাটে কচুমুখি নিয়ে এলে বিক্রি না হওয়ার চিন্তা থাকে না। বাজারে ক্রেতা বেশি, দামও তুলনামূলক ভালো পাওয়া যায়।
কুষ্টিয়া থেকে কচুমুখি কিনতে আসা বেপারী শাহাজান করিব জানান, বাসাবাড়ি হাটের কচুমুখির মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর চাহিদা রয়েছে। এখান থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কচুমুখি ঢাকা, কুষ্টিয়া, নাটর, রাজশাহী, রংপুর, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। প্রথম দিকে ভালো মানের কচুমুখি প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এখন শেষ সময়ে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, চলতি মৌসুমে শার্শা উপজেলায় প্রায় ১৮০ হেক্টর জমিতে কচুমুখির আবাদ হয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারজাতকরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় দিনদিন নতুন নতুন কৃষক এই চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। বাজারের চাহিদা বিবেচনায় আগামী বছরগুলোতে এর চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।


















