
মোবাশ্বের নেছারী, কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা :
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে মাদক সেবনের অভিযোগে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার মাদক সেবনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নজরে আসে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের।
রোববার (২৩ আগস্ট) লিখিতভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের বড়লই এলাকার বড়লই দ্বিমুখী দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবু সায়েদকে এ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সে ওই এলাকার রেজাউল ইসলামের ছেলে।
মাদরাসার সুপার নুরুল ইসলাম সরকার স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী আবু সায়েদের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ ওঠে। এ-সংক্রান্ত বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়ে। পরে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা ও নৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতেই অভিযোগের পর ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বহিষ্কারের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাদরাসার সুপার নুরুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ থাকলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
বহিষ্কারের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘একজন মাদরাসা শিক্ষার্থীর মধ্যে যে নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শ থাকা উচিত, তার মধ্যে তা নেই। তাই মাদরাসা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
এদিকে শিক্ষার্থীর বাবা রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলে অপরাধ করেছে এবং মাদক সেবন করেছে। এর শাস্তি হিসেবে কর্তৃপক্ষ তাকে বহিষ্কার করেছে। এখানে আমার নতুন করে বলার কিছু নেই।’
স্থানীয় বাসিন্দা আতিকুর রহমান, আতাউর রহমান খন্দকার ও মিল্টন মাদরাসা কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, মাদক প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এমন কঠোর বার্তা অন্য শিক্ষার্থীদেরও সতর্ক করবে।
তবে মাদক সেবনের অভিযোগ এবং বহিষ্কারের বিষয়ে শিক্ষার্থী আবু সায়েদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে এমন ঘটনায় শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।






