সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং জোরপূর্বক বাড়ি দখলের অভিযোগে ১১ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের বাসিন্দা রোকসানা বেগম। তিনি সুনামগঞ্জের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৯ জুলাই পূর্ববিরোধের জেরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অভিযুক্তরা বাদীর বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা ঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান আসামি সোহেদ আলম রামদা দেখিয়ে আলমারির চাবি ছিনিয়ে নেন। পরে অন্য আসামিরা আলমারি থেকে প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার (আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ টাকা) এবং জমির ধান বিক্রির ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বাধা দিতে গেলে নারী আসামিরা রোকসানা বেগমকে চুল ধরে টেনে ঘরের বাইরে এনে মারধর করেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলেও অভিযুক্তদের সশস্ত্র অবস্থানের কারণে কেউ এগিয়ে যেতে পারেননি।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, খবর পেয়ে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে বাদীর ভাই ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। ১৪ জুলাই পুলিশ বাড়ি থেকে কিছু ধান, গরু ও কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ধার করে বাদীর ভাইয়ের জিম্মায় দেয় এবং বসতঘরে তালা লাগিয়ে রাখে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার পর আসামিপক্ষ বাদী, তার স্বামী ও দুই ছেলের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করে। প্রাণনাশের আশঙ্কায় তারা বাড়িতে ফিরতে পারেননি। পরে আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর ১৬ জুলাই বাড়িতে ফিরে গেলে দেখা যায়, পুলিশের লাগানো তালা ভেঙে অভিযুক্তরা ঘরে প্রবেশ করেছে। তারা অবশিষ্ট মূল্যবান মালামাল, ধান, চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র ও জমির দলিলপত্র নিয়ে বসতঘর দখল করে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বর্তমানে বাদী ও তার পরিবার বাড়িছাড়া অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একাধিকবার থানায় সহযোগিতা চাইলেও পুলিশ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেয় বলে বাদীর দাবি।
মামলায় সোহেদ আলম, আক্কল আলী, কুহিল, নুর ইসলাম, সামছু আলম, সূর্য আলম, অলি, সুনেকা, সফারুন, হুসনারা ও লাকীসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। বাদী আদালতের কাছে অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন।
















