বাংলা ভয়েস ডেস্ক:
নরসিংদীর শিবপুরে প্রেমিকার আত্মহত্যার শোক সইতে না পেরে ১৯ দিন পর ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন প্রেমিক সিফাত (১৯)।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে উপজেলার মাছিমপুর ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সিফাত ওই গ্রামের ইব্রাহিমের ছেলে। তিনি শিবপুর সরকারি শহীদ আসাদ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলেন।
মৃত্যুর আগে ফেসবুকে সর্বশেষ স্ট্যাটাসে সিফাত লিখেন, তানহায় আত্মহত্যা করে প্রমাণ করে গেল আমারে কতটা ভালোবাসে। আমিও প্রমাণ করে দিমু তানহারে আমি কতটা ভালোবাসি। কারো সাথে ভুল করে থাকলে মাফ করে দিও। আর দেখা হবে না। সবাই দোয়া কইরো শান্তিতে থাকি কিংবা অশান্তিতে দু’জন যেন একসাথে থাকতে পারি। শেষ ইচ্ছা তানহার কবরের পাশে আমাকে কবর দেওয়া হোক।
আমি পরিস্থিতির স্বীকার। আর আমার কোনো কিছুর জন্য তানহার পরিবার বা আমার পরিবার দায়ী না। এমনকি আমার কোনো ভাই-ব্রাদার বা বন্ধুও দায়ী না। যা হবে আমার নিজের ইচ্ছেতে হবে। সত্যি বলতে আমার আর বাঁচার ইচ্ছে নাই। আমাকে যদি কেউ বাঁচিয়েও নেয়, আমি পুনরায় আত্মহত্যার চেষ্টা করমু। প্লিজ আমাকে কেউ বাঁচানোর চেষ্টা কইরো না। বেঁচে থেকে আর কী হবে? যার জন্য বাঁচার কথা ছিল, সে তো আর নাই।
তানহা আমারে কথা দিছিল যদি বাঁচি তো একসাথে বাঁচমু আর যদি মরতে হয় তো একসাথে মরমু। আমি তানহারে এই কথাটাই দিছিলাম। কিন্তু একটা চরিত্রহীন জানোয়ার আমাদের সুখে থাকতে দিল না। ওদের অত্যাচারে তানহা আত্মহত্যা করল।
এক প্রকার তারা তানহারে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করল। জানোয়ারের পরিবারকেই আমি খুনি বলে দাবি করি। আমি যদি বেঁচে থাকি, তাহলে জানোয়ারের পরিবার স্বাধীনভাবে চলবে, ওদের কোনো সাজা হবে না। আর অন্য দিকে আমার তানহাও শেষ, আমি অর্ধেক শেষ, আমার পরিবারও শেষ। আমি আর কষ্ট সহ্য করতে পারছি না (প্রমাণ হয়ে যাক দু’জন দু’জনকে কতটা ভালোবাসতাম) আর আমি চরিত্রহীন জানোয়ারের পরিবারের সঠিক বিচারের দাবি জানাচ্ছি। এমন সাজা দেওয়া হোক, অন্য কোনো মেয়ের সাথে যেন এমন না হয়। আর যেন কারো প্রাণ না ঝরে। কেউ যেন ব্ল্যাকমেইলের স্বীকার না হয়।
আমার শেষ একটাই ইচ্ছে- আমরা দু’জনে সারাজীবন একসাথে থাকতে চেয়েছিলাম, বাস্তবে তা হলো না; তাই আমার মৃত্যুর পরে তানহার কবরের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।
আমি আঙুররে মারছি শুধু একটা কারণে। হেয় তানহার হাতে ধরছিল। তানহারে খারাপ প্রস্তাব দিছিল। আমি সহ্য করতে পারি নাই। তাই হেরে কোপাইছি… আমরা প্রেম করছি; এটাই কি অপরাধ ছিল… আমাদের জীবন শেষ করে দিল…. ভালো থাকুক আঙুর আর আঙুরের পরিবার।
নিহতের পিতা ইব্রাহিম জানান, প্রতিবেশী চাচাত বোন (খলিলের মেয়ে) তানহার (১৫) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল আমার ছেলে সিফাতের। গত ৩ এপ্রিল দিবাগত রাত দুইটার সময় তানহা ঘরের ভেতর থেকে আর সিফাত জানালার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় দেখে ফেলে একই এলাকার রাজুর ছেলে আঙ্গুর (২৫)। এসময় আঙ্গুর তানহাকে কু-প্রস্তাব দেয়। সিফাত এতে নিষেধ করে। কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আঙ্গুর সিফাতকে মারধর করে টাকা দাবি করে। পরে সে উত্তেজিত হয়ে আঙ্গুরকে কুপিয়ে আহত করে। মারামারির বিষয়টি নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে।
লোকলজ্জায় এপ্রিল মাসের ৬ তারিখ রাতে তানহা নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এসব বিষয়ে গ্রামীণ সালিশ-দরবার হওয়ার কথা ছিল। সালিশ-দরবারে আমাকে ও আমার ছেলেকে এটা করবে, ওটা করবে বলে বিভিন্নভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করত। দরবারে গেলে জমির দলিল নিয়ে যেতে বলত। এসব মানসিক চাপ সইতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে ছেলে সিফাত। আমি এর বিচার দাবি করছি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের পর আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

















