বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা :
যশোরের শার্শায় সাংবাদিক সোহাগ হোসেন ও শাহারুল ইসলাম রাজ দুই সাংবাদিককে বেধড়ক মারধর, বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর এবং মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া সাংবাদিক সোহাগ হোসেন পিতা আব্দুস সামাদকেও মারধর করেছে সাগর, আশিক। এ ঘটনায় শার্শা থানায় চার জনের নাম উল্লেখ করে ভুক্তভোগীরা একটি জিডি করেছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১ থেকে ১২ টার মধ্যে উপজেলার বাগুড়ী খ্রিস্টান মিশনের পাশে ও পরবর্তীতে সাংবাদিক সোহাগ হোসেনের বাড়িতে এসব ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, বাগআঁচড়া ইউনিয়ন উলামালীগের সাবেক সভাপতি নিছার মুনশি ছেলে মানবাধিকারকর্মী আসাদুজ্জামান আসাদের সঙ্গে সাংবাদিক সোহাগ হোসেন ও শাহারুল ইসলাম রাজের পূর্ব থেকে বিরোধ চলছিলো। শনিবার বেলা আনুমানিক ১১ টার দিকে আসাদের সাথে সোহাগ হোসেন ও শাহারুল সাথে কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষই মারধরের শিকার হন বলে দাবি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা আশিকুজ্জামান আশিক সাংবাদিক সোহাগ হোসেনকে কাঠের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এতে সোহাগ হোসেন গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরবর্তীতে আশিকুজ্জামান আশিকের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি বেলতলা বাজারে সাংবাদিক সোহাগ হোসেন ও শাহারুল ইসলাম রাজকে খোঁজাখুঁজি করেন। বাজারে তাদেরকে না পেয়ে সাংবাদিক সোহাগ হোসেনের বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর, হত্যার হুমকি ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে চলে আসেন।
এদিকে সাংবাদিক সোহাগ হোসেনকে বাড়িতে না পেয়ে তার মামাতো ভাই সাংবাদিক শাহারুল ইসলাম রাজকে ফোন করে সাগর ও মিঠু হত্যার হুমকি দেয়। উক্ত অডিও কল রেকর্ডটি প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ঘটনাটির সঙ্গে আসাদুজ্জামান আসাদ, আশিকুজ্জামান আশিক, সাগর ও জাহাঙ্গীর, মিঠু, হুমায়ুন মাষ্টার, বাবুসহ আরও কয়েকজন জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিক সোহাগ হোসেনের পরিবারের দাবি, আসাদুজ্জামান আসাদ ও আশিকুজ্জামান আশিকের বিরুদ্ধে আদালতে ও থানা একাধিক চাঁদাবাজির মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন সাংবাদিক সোহাগ হোসেন ও শাহারুল ইসলাম। সেই সংবাদ প্রকাশের জের আসাদুজ্জামান, স্বেচ্ছাসেবক দলের কথিত নেতা আশিক, খুড়া সাগর, মাছ জাহাঙ্গীর গংরা মারধর ও হামলা ঘটনা ঘটিয়েছে। যা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্তের করলে উঠে আসবে।
এঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।


















