জয়পুরহাট সরকারি কলেজের মাঠে চলমান ফুটবল টুর্নামেন্টের অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে খেলা বন্ধের দাবিতে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ঝাড়ু হাতে অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ, শিক্ষকদের সঙ্গে হট্টগোল এবং এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে জয়পুরহাট সরকারি কলেজে এ ঘটনা ঘটে। কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করেছেন সংগঠনটির নেতারা।
কলেজের শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১৩ আগস্ট সকালে কলেজ মাঠে ‘জুলাই-আগস্ট স্মৃতি আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর উদ্বোধন করা হয়। টুর্নামেন্টে কলেজের ১৬টি বিভাগ অংশ নিয়েছে।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় উদ্ভিদবিদ্যা ও উচ্চ মাধ্যমিক মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের মধ্যে খেলা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সকাল সাড়ে ১১টায় রসায়ন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের মধ্যে খেলা চলছিল। ওই খেলায় কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দাওয়াত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে আগে থেকেই কয়েকজন নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ ছিলেন।
পরে তারা অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে তার কক্ষে যান। এ সময় অধ্যক্ষের কক্ষে থাকা কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় এক ব্যক্তি ঝাড়ু হাতে অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার সময় কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট (এইচআরডি) আবু বক্কর সিদ্দিক নামে এক শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার বিষয়ে জয়পুরহাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ.কে.এম শফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েকজন শিক্ষার্থী তার সঙ্গে কথা বলতে অধ্যক্ষের কক্ষে আসেন। তিনি শিক্ষকদের বাইরে পাঠিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। একপর্যায়ে একজন শিক্ষার্থী ঝাড়ু হাতে কক্ষে প্রবেশ করেন। বিষয়টি দেখে বাইরে থাকা শিক্ষকরা ভেতরে এসে ঝাড়ু নিয়ে প্রবেশের কারণ জানতে চান। এ নিয়ে হট্টগোল শুরু হয়।
অধ্যক্ষের ভাষ্য, একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীকে গালে থাপ্পড় মেরে বাইরে বের করে দেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ভাঙচুর শুরু হয়। ঝাড়ু হাতে কক্ষে প্রবেশের বিষয়টি দেখে তিনি নিজেও বাইরে চলে যান।
অধ্যক্ষ আরও বলেন, তাদের মূল দাবি ছিল মাঠের খেলা বন্ধ করে দেওয়া। তবে খেলা বন্ধ করা সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠে খেলাধুলা চালু রাখা হচ্ছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও মাঠে খেলা চালু রাখার পাশাপাশি মাঠ সংস্কারের কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, “খেলা বন্ধ করা তো আমাদের পক্ষে সম্ভব না।”
এ ঘটনায় কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতারা দাবি করেছেন, তারা হামলা-ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত নন।


















