তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তিসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
শুনানিতে জামায়াতের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ও ব্যারিস্টার এহসান সিদ্দিকী। ইনসানিয়াত বিপ্লবের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। চার আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জুনায়েদ আহমেদ চৌধুরী ও ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ। ইন্টারভেনর হিসেবে ছিলেন ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শারমিন পুতুল।
হাইকোর্টের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। আদালত বলেন, এই দুটি অনুচ্ছেদ সংবিধানের মৌলিক কাঠামো, বিশেষ করে গণতন্ত্রের ভিত্তিকে ক্ষুণ্ন করেছে।
এ ছাড়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজিত সংবিধানের ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদও সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ উল্লেখ করে বাতিল ঘোষণা করা হয়। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মোট ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।
তবে আদালত পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করেননি।
রায়ে বলা হয়, বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আগামী জাতীয় সংসদের ওপর থাকবে। সংসদ জনগণের মতামত নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী এসব বিধান সংশোধন, পরিমার্জন বা পরিবর্তন করতে পারবে। এর মধ্যে জাতির পিতার স্বীকৃতি এবং ২৬ মার্চের ভাষণ-সংক্রান্ত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গণভোট প্রসঙ্গে হাইকোর্ট বলেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে থাকা গণভোটের বিধান বিলুপ্ত করা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে পঞ্চদশ সংশোধনীর ৪৭ ধারা বাতিল ঘোষণা করে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজিত গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করা হয়।
রায়ে বাতিল হওয়া ৭ক অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল বা স্থগিতকরণকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ ছিল। ৭খ অনুচ্ছেদে সংবিধানের মৌলিক বিধান সংশোধন-অযোগ্য করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। আর ৪৪(২) অনুচ্ছেদে সংসদকে আইনের মাধ্যমে হাইকোর্টের কিছু ক্ষমতা অন্য আদালতের কাছে অর্পণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যা আদালত বাতিল ঘোষণা করেন।
গত ৮ জুলাই বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর ১৩৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।
পরবর্তীতে রিটকারী সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ‘লিভ টু আপিল’ দায়ের করেন।
আপিলে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরো আইন বাতিলের আবেদন জানানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দিয়েছেন। বহুল আলোচিত এ সাংবিধানিক মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখন আপিল বিভাগের রায়ের ওপর নির্ভর করছে।

















