ইমাম হাসান সোহান, ভ্রাম্যমাণ সংবাদদাতা :
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে কৃষকদের আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করতে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স (দাবি) কর্মসূচির উদ্যোগে ধান মাড়াই যন্ত্র, সেচ সাশ্রয়ী অল্টারনেটিভ ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রাইয়িং (AWD) পাইপ এবং ভার্মিকম্পোস্ট সার তৈরির উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) উপজেলার আমবাগান শাখা কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলার ৩৭ জন কৃষকের মাঝে এসব আধুনিক কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন। বিশেষ অতিথি ও প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান।
ব্র্যাকের জেলা কোঅর্ডিনেটর সরকার হাসান ওয়াইজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের এরিয়া ম্যানেজার (দাবি) সামছুল হুদা, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, আমবাগান শাখা ব্যবস্থাপক তপন চন্দ্র বসাক, রাজিয়া সুলতানা, বানিয়াজান শাখা ব্যবস্থাপক, ভাইঘাট শাখা ব্যবস্থাপক দিলিপ চন্দ্র দে এবং আমবাগান বর্গা চাষী প্রকল্পের শাখা ব্যবস্থাপক সানোয়ার হোসেন।
আয়োজকরা জানান, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসারে একজন কৃষককে একটি অত্যাধুনিক ধান মাড়াই যন্ত্র, ৩০ জন কৃষককে সেচ সাশ্রয়ী AWD পাইপ এবং ছয়জন কৃষককে ভার্মিকম্পোস্ট (কেঁচো) সার তৈরির উপকরণ প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষিকে আরও স্মার্ট ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে। তিনি বলেন, সেচ সাশ্রয়ী AWD প্রযুক্তি ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় রোধের পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়তা করবে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার এমন উদ্যোগ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান আধুনিক সেচ পদ্ধতি ও জৈব সার ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রচলিত সেচ পদ্ধতিতে বিপুল পরিমাণ পানি অপচয় হয়। AWD প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সেচের পানি ও জ্বালানি খরচ সাশ্রয় করা সম্ভব। একই সঙ্গে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে ভার্মিকম্পোস্ট সার ব্যবহারে মাটির স্বাস্থ্য ও ফসলের গুণগত মান উন্নত হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা কম খরচে অধিক উৎপাদন নিশ্চিত করতে কৃষকদের আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি অন্য কৃষকদেরও এসব প্রযুক্তি গ্রহণে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।


















