যশোর সংবাদদাতা :
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দোকান ঘরে জোরপূর্বক তালা ঝুলিয়ে মব সৃষ্টি করে সালিস বৈঠকের মাধ্যমে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বাগআঁচড়া নাভারণ ও বেনাপোল মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আজিজুর রহমান বাবুর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয় একজন পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় ঐ টাকা আদায় করা হয় ব্যবসায়ীর কাছ থেকে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগআঁচড়া (বাগুড়ী) ফুলতলা পট্টির রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী জহিরুজ্জামানের দোকানের বালু রাখার স্থানে গত শুক্রবার এক ট্রাকের হেলপার প্রস্রাব করেন। এ নিয়ে ব্যবসায়ী জহিরুজ্জামান বিষয়টি জানতে চাইলে হেলপারের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ব্যবসায়ীর হাতে থাকা রড দিয়ে হেলপারকে আঘাত করার অভিযোগ পাওয়া যায়।
ঘটনার পর স্থানীয় মটর শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কে ট্রাক আড় করে দিয়ে মানুষকে জিম্মি করে সড়ক অবরোধ করে মব সৃষ্টি করে। এতে এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হলে বাগআঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই গোরাচাঁদ বিশ্বাস ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক করেন।
পরবর্তীতে ঘটনার জেরধরে বাগআঁচড়া নাভারণ ও বেনাপোল পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আজিজুর রহমান বাবুর নেতৃত্বে শ্রমিক ভবনে একটি সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এসআই গোরাচাঁদের উপস্থিতিতে ওই সালিসে ব্যবসায়ী জহিরুজ্জামানের কাছ থেকে জোরপূর্বক ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জহিরুজ্জামান জানান, তাকে শ্রমিক অফিসে ডেকে চাপ প্রয়োগ করে তার কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।
বাগআঁচড়া নাভারণ ও বেনাপোল মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আজিজুর রহমান বাবু জানান, ৭০ হাজার টাকা জরিমানা কম হয়ে গেছে, আরও বেশি জরিমানা করা উচিত ছিলো।
বাগআঁচড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই গোরাচাঁদের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, সালিস বৈঠকে আমি প্রথম থেকে উপস্থিত ছিলাম না। সালিশের শেষ মুহূর্তে আমি সেখানে যায়, গিয়ে দেখি মিমাংসা হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা নেয়ার বিষয়টি আমি জানি না। শ্রমিক নেতাদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে তারা ভালো বলতে পারবেন।
এবিষয়ে শার্শা থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, মটর শ্রমিকরা হেলপারের মারধরের ঘটনায় রাস্তা অবরোধ করেছিল এসআই গোরাচাঁদ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে কোন সালিশ বৈঠকে বা পুলিশের উপস্থিতিতে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা নেয়ার বিষয় জানা নেই। যদি কোন পুলিশ সদস্যের দায়িত্ব অবহেলা বা সংশ্লিষ্টতা থাকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

















