নেপালের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব চমক এনেছে। ‘হিমালয় কন্যা’ খ্যাত দেশটিতে অনুষ্ঠিত এবারের নির্বাচনে বলেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন দল রাষ্ট্রীয় স্বাধীন পার্টি (আরএসপি) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। মাত্র তিন বছর আগে দলটির যাত্রা শুরু করেছে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স নেপালের আরএসপির এই জয়কে ‘টসুনামি’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। এটি শুধুমাত্র একটি নির্বাচনের ফল নয়, বরং একটি প্রজন্মের দীর্ঘ নিরাশা ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সূচক হিসেবে উঠে এসেছে। বিশ্বে যত জেন-জি বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে, কেউ না পারলেও নেপালের জেন-জি কিন্তু তাদের বিপ্লবের ফসল ঘরে তুলতে সমর্থ হয়েছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া নেপালের ছাত্র-যুব আন্দোলনই এই পরিবর্তনের পটভূমি গড়ে তুলেছিল। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, উচ্চ বেকারত্ব ও রাজনৈতিক অচলাবস্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল তখন সমগ্র নেপালে। বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে প্রায় শতাধিক সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছে। এর ফলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
দায়িত্ব নিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি সুশীলা কার্কি। দীর্ঘ দুই দশকের পুনরাবৃত্তিকে ভেঙে দেওয়া এই আন্দোলন ভোটের মাধ্যমে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করেছে। জনগণের একাংশ মনে করছে, পুরোনো দলগুলো শুধু নিজেদের স্বার্থ দেখছে। সাধারণ মানুষের দুর্দশাকে উপেক্ষা করছে। নেপালের সাধারণ জনগণ এখন জবাবদিহি, স্বচ্ছ ও উন্নয়নমুখী রাজনীতির দাবি করছে।


















