দিল্লি সংলগ্ন উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ থানার পুলিশ সম্প্রতি কৌসাম্বি এলাকার একটি বস্তিতে তল্লাশি চালায়। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ কর্মকর্তারা বস্তিবাসীদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে পরিচয় জানতে চাইছেন।
ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে বাংলাদেশি শনাক্ত করতে অদ্ভূত এক ‘যন্ত্র’ ব্যবহার করছে উত্তর প্রদেশ পুলিশ। গাজিয়াবাদের ওই ঘটনায় পুলিশের দাবি, যন্ত্রটি পিঠে ঠেকালেই বলে দেয় কে বাংলাদেশি আর কে ভারতীয়। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভারতজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন, শুরু হয়েছে বিভাগীয় তদন্ত। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
দিল্লি সংলগ্ন উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ থানার পুলিশ সম্প্রতি কৌসাম্বি এলাকার একটি বস্তিতে তল্লাশি চালায়। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ কর্মকর্তারা বস্তিবাসীদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে পরিচয় জানতে চাইছেন। এ সময় সাব-ইন্সপেক্টর অজয় শর্মার হাতে মোবাইল ফোনের মতো একটি যন্ত্র দেখা যায়। তিনি বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলছেন, ‘খবরদার, মিথ্যা বলবেন না। আমাদের কাছে এমন যন্ত্র আছে যাতে সব ধরা পড়ে যায়।’
এরপর এক বৃদ্ধের পিঠে যন্ত্রটি ঠেকিয়ে পুলিশ দাবি করে, ‘মেশিন বলছে, আপনি বাংলাদেশি।’ যদিও ওই ব্যক্তি ও উপস্থিত অন্যরা হিন্দিতে চিৎকার করে প্রতিবাদ জানান। তারা দাবি করেন, তারা বাংলাদেশি নন, বরং বিহারের আরারিয়া জেলা থেকে এসে দীর্ঘ বছর ধরে এখানে বসবাস করছেন।
হাসিঠাট্টা ও সমালোচনা: কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছাড়াই পিঠে যন্ত্র ঠেকিয়ে নাগরিকত্ব নির্ধারণের এমন অদ্ভুত কৌশলে সামাজিক মাধ্যমে হাসির রোল পড়েছে। নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলেছেন, এমন কোন প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হলো, যা রক্তমাংসের মানুষের শরীরের স্পর্শে তার জাতীয়তা বলে দিতে পারে? অনেকে একে পুলিশের চরম অপেশাদারত্ব ও হয়রানির নামান্তর হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য: ভিডিওতে যে ব্যক্তির পিঠে যন্ত্র ঠেকানো হয়েছিল তার নাম মোহাম্মদ সাদিক (৭৬)। পেশায় মাছ বিক্রেতা এই বৃদ্ধ ১৯৮৭ সাল থেকে ওই এলাকায় বাস করছেন। সাদিক ক্ষোভের সঙ্গে জানান, ভোটার আইডিসহ সব বৈধ কাগজপত্র দেখানোর পরও পুলিশ তাকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছে।
কর্তৃপক্ষের সাফাই ও তদন্ত: বিতর্কের মুখে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা অজয় শর্মা দাবি করেছেন, এটি আসলে কোনো বিশেষ যন্ত্র ছিল না, বরং অনুপ্রবেশকারীরা যেন ভয়ে সত্য কথা বলে, সে জন্য এটি ছিল একটি ‘মনস্তাত্ত্বিক কৌশল’। তবে বিষয়টি হালকাভাবে নিচ্ছে না ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।
গাজিয়াবাদের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার নিমিশ পাতিল জানিয়েছেন, নতুন বছর ও বড়দিন ঘিরে নিয়মিত তল্লাশি অভিযানের অংশ হিসেবে ওই দিন পুলিশ সেখানে গিয়েছিল। অবৈধ অনুপ্রবেশকারী খোঁজার নামে সাধারণ মানুষকে এভাবে হয়রানি করা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে ইন্দিরাপুরমের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কমিশনার রবীন্দ্র গৌড় স্পষ্ট জানিয়েছেন, হয়রানির প্রমাণ মিললে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


















