দীর্ঘ দুই যুগ পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। বুধবার (১৫ জুলাই) আটলান্টার ৭৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ।
১৯৮৬ বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং ফকল্যান্ড (মালভিনাস) যুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে ঘিরে দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ফুটবল বৈরিতার কারণে ম্যাচটি ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুরো আটলান্টাজুড়ে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে আটলান্টা পুলিশ ডিপার্টমেন্ট।
নিরাপত্তা শঙ্কা আরও বেড়েছে ফিফার টিকিট বণ্টন ব্যবস্থার কারণে। সাধারণ ক্যাটাগরির টিকিটধারী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের হাজার হাজার সমর্থক গ্যালারিতে পাশাপাশি বসবেন। ফলে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে স্টেডিয়াম, বিনোদন এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে পুরো শহরকে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে।
ম্যাচের আগে মাঠের বাইরের বিতর্ককে গুরুত্ব দিতে নারাজ আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি বলেন, “এটি স্রেফ একটি ফুটবল ম্যাচ, এর বেশি কিছু নয়। আমরা একজন ভালো কোচের অধীনে থাকা কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি। তবে আমাদের ভাবনায় শুধু ফুটবলই থাকবে।”
অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে ফকল্যান্ড যুদ্ধ নিয়ে গান গাওয়ার ঘটনা আলোচনার জন্ম দিলেও বিষয়টি মাঠের বাইরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল।
তার ভাষায়, “এই ম্যাচটি ১৯৮৬ সালের স্মৃতি এবং ফকল্যান্ড যুদ্ধের বীরদের কথা মনে করিয়ে দেয়। তবে এসব আলোচনা মাঠের বাইরে থাকাই উচিত। মাঠে আমাদের একমাত্র মনোযোগ থাকবে ফুটবলে।”

















