নিউজ ডেস্ক
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে সদ্য ভূমিষ্ঠ এক কন্যা সন্তানকে ফেলে লাপাত্তা এক মা। হাসপাতালে ভুল নাম–ঠিকানা দিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন ওই নারী। আজ বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালে না পেয়ে সিসি ক্যামেরায় ছবি দেখে ওই নারীর সন্ধানে কাজ করছে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ডিউটি অফিসার এস আই হাসানুজ্জামান জানান, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার জেহালা ইউনিয়নের কেস্টপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনর স্ত্রী পাপিয়া থাতুন (২৫) পরিচয়ে এক নারী গতকাল বুধবার রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। ওই রাতেই তিনি একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর মা পুরোপুরি সুস্থ না থাকায় নবজাতকের মাকে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়ে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে নবজাতকের মা একটু সুস্থ হলে গাইনি ওয়ার্ডে থাকা বিলকিস খাতুন নামের এক নারীর কাছে নবজাতককে রেখে কৌশলে পালিয়ে যান নাবজাতকের মা ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরেক নারী। দীর্ঘসময়েও ফিরে না আসায় নবজাতককে নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি চুয়াডাঙ্গা সদর থানা কর্তৃপক্ষকে জানায়।
এসআই হাসানুজামান আরও জানান, নবজাতককে ফেলে যাওয়া মায়ের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। নবজাতককে আপাতত হাসপাতালের এক সিনিয়র স্টাফ নার্সের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
এদিকে এ খবর জানাজানি হলে নবজাতককে দেখতে আসছেন অনেকেই। তাদের কেউ কেউ নাবজাতককে নিজের হেফাজতে নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। অনেকেই নবজাতককে নিজের সন্তান পরিচয়ে লেখাপড়া শিখিয়ে বড় করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা- তুজ-জোহরা হাসপাতালে গিয়ে নবজাতককে দেখে আসেন।
এ বিষয়ে সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন জানান, নবজাতককে আপাতত চুয়াডাঙ্গা পুলিশের তত্ত্বাবধানে সিনিয়র স্টাফ নার্স মালেকা খাতুনেরও কাছে রাখা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী বলেন, ওই নারী হাসপাতালে যে ঠিকানা দিয়ে গেছেন, যাচাই করে দেখা গেছে তা ভুল। আমরা ওই নারীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।
ইউএনও ফাতেমা-তুজ-জোহরা বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


















