পাবেল হাসান, সিলেট সংবাদদাতা :
বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় পর্তুগালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সিলেটের ওসমানীনগরের প্রবাসী যুবক শামসুল ইসলাম কামরান (২৫)। উন্নত জীবনের আশায় নববধূকে দেশে রেখে কর্মস্থলে ফিরে গেলেও আর জীবিত ফেরা হলো না তাঁর। এ ঘটনায় পর্তুগালপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি ও নিজ এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
জানা গেছে, শনিবার (৪ জুলাই) পর্তুগাল সময় রাত আনুমানিক ৯টার দিকে এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন কামরান। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে আলমেদা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহত শামসুল ইসলাম কামরান সিলেট জেলার ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামির ইউনিয়নের খাগদিওর গ্রামের মৃত মুতলিবের তৃতীয় ছেলে। কয়েক বছর ধরে তিনি পর্তুগালে কর্মরত ছিলেন। তিন মাস আগে দেশে এসে বিয়ে করেন। এরপর আবার কর্মস্থলে ফিরে যান।
কামরানের মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর তাঁর গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম শুরু হয়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। নববধূসহ পরিবারের সদস্যরা গভীর শোকে ভেঙে পড়েছেন।
পরিবারের আশা ছিল, প্রবাসে থেকে কামরান সংসারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই তিনি না-ফেরার দেশে চলে গেলেন।
পর্তুগালপ্রবাসী সাংবাদিক শামীম আহমদ জানান, কামরানের মৃত্যুতে দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, নিহতের মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। স্বজনরা মরদেহ দ্রুত দেশে এনে দাফনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
স্বপ্ন নিয়ে প্রবাসে পাড়ি জমানো এক তরুণের এমন অকাল মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকাবাসীর জন্যও গভীর বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
















