মো. পারভেজ সরকার, রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা :
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা সরকারি খাদ্য গুদামে চলতি বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রয়োজনের তুলনায় পাটের বস্তার বরাদ্দ কম এবং পর্যাপ্ত মজুদের জায়গা না থাকায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সংগ্রহ কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। এতে ধান দিতে এসে অনেক কৃষক ফিরে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
চান্দাইকোনা খাদ্য গুদামে ধান দিতে আসা কৃষক মজিবুর রহমান জানান, ধান নিয়ে গুদামে গেলেও বস্তা সংকটের কথা বলে তাকে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ধান প্রস্তুত করে গুদামে নিয়ে এসেছি। কিন্তু বস্তা নেই বলে ধান দিতে পারিনি। কয়েক দিন পর আসতে বলা হয়েছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে।
কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, সরকারি দামে ধান বিক্রি করার আশায় গুদামে এসেছি। কিন্তু বস্তার সমস্যার কারণে ধান দিতে না পেরে ফিরে যেতে হচ্ছে। দ্রুত বস্তার ব্যবস্থা হলে কৃষকরা উপকৃত হবে।
আরেক কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ধান কাটার পর সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। গুদামে ধান দিতে পারলে কৃষকের কিছুটা স্বস্তি আসে। কিন্তু বারবার গুদামে এসে ফিরে যেতে হলে ভোগান্তি বাড়ে।
চান্দাইকোনা খাদ্য গুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত খাদ্য পরিদর্শক তন্ময় বিশ্বাস বলেন, চাহিদার তুলনায় বস্তার বরাদ্দ একেবারেই অপ্রতুল হওয়ায় ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমে সমস্যা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় বস্তা না থাকায় কৃষক ও মিলারদের কাছ থেকে ঠিকমতো ধান-চাল সংগ্রহ করাও সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি জানান, চলতি বোরো মৌসুমে ধান সংগ্রহের জন্য ৫০ কেজির প্রায় ১২ হাজার বস্তা এবং চাল সংগ্রহের জন্য ৩০ কেজির প্রায় ২ লাখ বস্তার প্রয়োজন। কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী বস্তা সরবরাহ না পাওয়ায় সংগ্রহ কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
তন্ময় বিশ্বাস আরও বলেন, বস্তার সংকটের পাশাপাশি পর্যাপ্ত মজুদের জায়গা না থাকায়ও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান-চাল সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে। গুদামের ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে একসঙ্গে বেশি পরিমাণ ধান-চাল সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
চান্দাইকোনা খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ১১৪ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার ২৫৫ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। অপরদিকে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৯৩২ মেট্রিক টন থাকলেও এখন পর্যন্ত প্রায় ৩২৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ হয়েছে।
রায়গঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণক মো. সিরাজুল ইসলাম সরকার জানান, বস্তার সংকট মোকাবিলায় পুরাতন বস্তা ব্যবহার এবং বিভিন্ন স্থান থেকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কোনোভাবে সংগ্রহ কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে মজুদের জায়গা সংকট থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সংগ্রহে বাধা তৈরি হচ্ছে।
কৃষকদের দাবি, সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে দ্রুত পর্যাপ্ত বস্তা সরবরাহ ও মজুদের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


















