সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ৯টার দিকে দৌলতপুর ইউনিয়নের গোপরেখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ উঠেছে, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সমর্থিত প্রার্থী মো. ইব্রাহিমকে সভাপতি করার দাবি থাকলেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম অপর প্রার্থী মো. সাইফুল মোল্লাকে সভাপতি করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে আতার মাঠ এলাকায় কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী তাকে ডেকে কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা করেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। পরে দুই পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের পরিহিত পাঞ্জাবির সামনের অংশ ছিঁড়ে যায় বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে এনায়েতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ব্যক্তিরাই নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধারা চললে তারা রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষিত ও বঞ্চিত হবেন বলে অভিযোগ করেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রোকেয়া খাতুন বলেন, “স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় খবর পাই প্রধান শিক্ষককে মারধর করা হচ্ছে। ছুটে এসে দেখি স্যার নেই। কী কারণে ঘটনা ঘটেছে তা বলতে পারব না।”
অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক ইউপি সদস্য বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী ম্যানেজিং কমিটি গঠন করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আগের কমিটিতে থাকা ব্যক্তিদের পরিবর্তে নতুন কমিটি করার বিষয়ে কথা হয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক একক ক্ষমতাবলে আগের কমিটির খসড়া অনুমোদনের জন্য জমা দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়।
এনায়েতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন বলেন, “প্রধান শিক্ষককে মারধরের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান বলেন, “প্রধান শিক্ষকের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যেহেতু বিষয়টি এনায়েতপুর থানার আওতাধীন, তাই আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


















