আশুলিয়ায় একটি ঘটনাকে যেন সিনেমাকেও হার মানিয়েছে জয়-প্রিয়ন্তী প্রেমিক যুগলের কাহিনী। একজন পুলিশ কনস্টেবলের মেয়ে হওয়ায় বিয়ের পর বিপাকে পড়েছেন তারা। অপহরণ মামলা দিয়ে ওই প্রেমিকের পরিবারকে হয়রানি করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে ওই পুলিশ কনস্টেবল এর বিরুদ্ধে।
গোপালগঞ্জ জেলার মোকসেদপুর তার বাড়ি হওয়ায় মোঃ শফিকুল ইসলাম ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে যাচ্ছে।
বেসরকারি টাঙ্গাইল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে লেখাপড়াকালে জয়ের প্রেমে পড়ে সিদরাতুল মুনতাহা প্রিয়ন্তী। একে অপরের ভালোবাসায় জড়িয়ে পড়ে এই প্রেমিক যুগল। পরে বিয়ে করেন তারা। পুলিশ বাবা মেয়ের এ প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে নারাজ।
পরে মেয়েকে বাসায় নজরবন্দি করে রাখেন কিছুদিন। যতে জয়ের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখতে পারে। এমনকি বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশী ও আত্মীয়র সঙ্গেও প্রিয়ন্তী যোগাযোগ বন্ধ করে দেন পুলিশ কনস্টেবল বাবা।
এভাবে জয়কে ছাড়াই ঘরে নজরবন্দি অবস্থায় প্রিয়ন্তীর কেটে যায় কিছুদিন। এক দিন বাসা থেকে পালিয়ে প্রেমিক জয়ের বাড়িতে ঠাঁই নেয় মেয়েটি। কিন্তু হার মানতে নারাজ তার পুলিশ বাবা। পরদিনই অপহরণ মামলা দেন জয় ও তার পুরো পরিবারের নামে। এরপর বিভিন্ন সময় মেয়ে প্রিয়ন্তীর শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের ওপর হামলা ও বিভিন্ন প্রশাসন দিয়ে মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আশুলিয়ার ইউনিক এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে পালিয়ে প্রিয়ন্তী উঠেছে চাড়ালপাড়া এলাকায় স্বামীর বাড়িতে। তবে বাবা পুলিশ কনস্টেবল মোঃ শফিকুল ইসলামের ভয়ে তারা এক দেড় মাস তারা ফরিদপুরে জয়ের খালা বাড়িতে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন এই দম্পতি।
খুশনুর আলম জয়ের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পুলিশ কনস্টেবল জন্য তারা অনেকটা বন্দিদশায় চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন।
ফেসবুক লাইভে সিদরাতুল মুনতাহা প্রিয়ন্তী বলেন, ৩ মাস আগে আমরা বিয়ে করেছি আমার নিজের ইচ্ছায়। বাবা ও মাকে আমাদের সম্পর্কের কথা জানিয়েছিলাম। বাবা তখন থেকেই নানাভাবে চাপ দেন। জয়ের পরিবারের ওপরও চাপ সৃষ্টি করেছেন আমার বাবা।
তিনি আরো বলেন, আমাকে প্রায় ১৫/২০ দিন বাসায় আটকে রাখা হয়েছিল। কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেননি। তারপর ৩ মাস আগে নিজের ইচ্ছায় আমি জয়দেবের বাড়ি পালিয়ে আসি। এরপর আমার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িরসহ পাঁচজনের নামে মামলা দেয়া হয়। পরে আমার বাবার ভয়ে আমিও আমার স্বামীসহ শশুর-শাশুড়ি ফরিদপুরে খালা শাশুড়ির বাড়িতে পালিয়ে থাকি। গত ১৯ মে আদালতে হাজির হয়ে স্বামীসহ সকলেই জামিনে আসে।
খুশনুর আলম জয় বলেন, আমরা একই কলেজে পড়াশোনা করতাম। ওখানে আমরা একজন আরেকজনকে পছন্দ করি। পরে আমরা নিজেদের ইচ্ছায় বিয়ে করি।
তিনি আরো বলেন, এরপর থেকে আমাকে ও আমার পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাই আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি, আমার পরিবারকে নিরাপত্তা দেয়া হোক; যাতে আমি সুখে-শান্তিতে সংসার করতে পারি।
আরো জানায়, গত ২০ মে তারিখে রাতে আমাদের বাসায় হঠাৎ র্যাব অভিযান করে আমার স্ত্রী প্রিয়ন্তীকে নিয়ে আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করেন।
পরের দিন প্রিয়ন্তীকে গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় অবস্থিত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালিকা) বন্দী রেখে দিয়েছেন। শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রিয়ন্তী মানাবেত জীবন যাপন করছেন। প্রিয়ন্তীকে অন্যত্ত্ব বিয়ে দেওয়ার জন্য তালবাহানা করছে তার বাবা ও মা।
এ বিষয়ে জানতে পুলিশ কনস্টেবল মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন,আমি পুলিশে চাকরি করি। আমার হাত-পা বাঁধা। ঘটনার দিন আমি আমার থানায় ডিউটিতে ছিলাম। আমাকে চাপের মধ্যে রাখতে আমার বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযোগ তুলেছে। আমার মেয়েকে গোপনে ভাগিয়ে নেয়ার তাকে পাওয়া না গেলে আমার স্ত্রী আশুলিয়া থানায় অপহরণ মামলা করে। এরপর আমার মেয়ের সন্ধান পাই। মামলা করা না হলে আমার মেয়ের সন্ধান পেতাম কি করে।
অপহরণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, অপহরণ মামলায় জয়সহ তার পরিবারের আরও ৫ জন সদস্য আসামি। তবে আসামিরা সবাই জামিনে আছেন।
















