নিজস্ব প্রতিবেদক:
সংবাদ প্রকাশের জেরে বাংলা ভয়েস ও দৈনিক যশোর বার্তা প্রত্রিকার বাগআঁচড়া (শার্শা) প্রতিনিধি সাংবাদিক মোঃ সোহাগ হোসেন একদল সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন তার অসুস্থতাকে পুজি করে সাতক্ষীরার কথিত সাংবাদিক মোহাম্মাদ শাহিদ বিশ (২০) হাজার টাকা উৎকোচ নিয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এছাড়াও মূল হামলাকারী ডা. হাবীবের কাছ থেকে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য কথিত সাংবাদিক শাহিদ তার অফিসের জন্য একটি এসি’র দাবীও করেন। এ ঘটনায় পত্রিকায় কর্মরত সকল সাংবাদিক ফুঁসে উঠেছে। তারা সকলেই এই কথিত সাংবাদিক শাহিদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
কথিত সাংবাদিক শাহিদ এর গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরে, তার পিতার নাম মৃত আব্দুর রশিদ মিয়া। কিন্তু সে নিজেকে গোপালগঞ্জে বাড়ি বলে বিভিন্ন জায়গায় পরিচয় দিয়ে থাকেন। বর্তমানে বিবাহ সূত্রে সে সাতক্ষীরা শহরে একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। তার গ্রামের বাড়িতে প্রথম স্ত্রী বসবাস করেন, আর সাতক্ষীরায় দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়ে সংসার করেন।
জানা গেছে, সাংবাদিক মোঃ সোহাগ হোসেন সংবাদ প্রকাশের জেরে একদল সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়ে প্রথমে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে দুইদিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়ার কারণে যশোরে একটি প্রাইভেট ক্লিনিক আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার কর্মরত ডাক্তার কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার শেষে তার কিডনীর গুরুতর সমস্যা ধরা পড়লে তাকে কিডনী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দেন। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা শেরে বাংলা নগর কিডনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কথিত সাংবাদিক শাহিদ নিজেকে বড় মাপের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সাতক্ষীরা শহরে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করে বেড়ায়। এর আগেও কথিত সাংবাদিক শাহিদের অপকর্মের দায়ে বিভিন্ন পত্রিকায় তার ছবিসহ সংবাদ প্রকাশিত হয়। মূলত কথিত সাংবাদিক শাহিদ সে একজন প্রাইভেটকার ড্রাইভার হিসাবে এলাকায় পরিচিত।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কথিত সাংবাদিক শাহিদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ না করাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সাতক্ষীরা জেলার সাংবাদিক নেতারা জানান, শাহিদ ও সোহাগ হোসেন একুই পত্রিকায় কাজ করেন, একজন আর একজনের সহকর্মী। একজন সহকর্মী সন্ত্রাসী হামলায় আগত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে আর কথিত সাংবাদিক শাহিদ এই সুযোগে হামলাকারীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে বিশ (২০) হাজার উৎকোচ নেওয়াটা খুবই দুঃখজনক। আজ শাহিদের মত ভুঁইফোঁড় সাংবাদিকের জন্য মূলধরার সাংবাদিকরা হামলা, মামলা, ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এ ধরনের অপ-সংবাদিকতার বিরুদ্ধে আমরা ঘৃণা ও ধিক্কার জানাই। সাথে সাথে এই সমস্ত ভুঁইফোঁড়, চাঁদাবাজ, কথিত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এখনই জরুরী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
















