মোবাশ্বের নেছারী, কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামে অপকর্মের প্রতিবাদ করায় সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামী লীগ নেতা ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) রাত সোয়া ৯টার দিকে জেলার রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের কর্তিমারী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে সাংবাদিকসহ সুধীমহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন- যাদুরচর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন সবুজ, তার সহযোগী জাকির হোসেন ও মাদক কারবারি নুরুন্নবী।
অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, ঘটনার রাতে তারাবির নামাজ পড়ে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় কর্তিমারী বাজারে আপেলের চায়ের দোকানের সামনে আসতেই মাদক কারবারি নুরুন্নবী, আওয়ামী লীগ নেতা সবুজ ও তার সহযোগী জাকির তার পথরোধ করেন। এরপর কোনো কারণ ছাড়াই তাকে মারধর শুরু করেন।
একপর্যায় বেধড়ক মারধরসহ শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয় ওই সাংবাদিককে। এরপর স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্হায় উদ্ধার করে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
এ ঘটনায় সাংবাদিক আনিছুর রহমান রৌমারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে রৌমারী থানার ওসি আব্দুল্লাহিল জামান বলেন, তদন্ত চলছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাংবাদিক আনিছুর জানান, ২০২১ সালে সবুজের কর্তিমারী বাজারে আওয়ামী লীগ ইউনিয়ন কার্যালয়ের নামে অবৈধভাবে জায়গা দখল বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন। আবার গত ৯ মার্চ লোকমুখে জানতে পেরে মাদক কারবারি নুরুন্নবীর বাড়িতে অভিযান চালায় রৌমারী থানার পুলিশের একটি দল।
এ সময় ওই মাদক কারবারির তত্ত্বাবধানে থাকা যাদুরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন সবুজের সেচপাম্পের ঘরে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ। পরে মাটি খুঁড়ে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশকে আনিছুর তথ্য দিয়েছেন বলে সন্দেহ করেন ওই আওয়ামী লীগ নেতা।
অভিযুক্ত যাদুরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন সবুজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সাংবাদিক আনিছুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে আমার সম্পর্কে যা-তা প্রচার করে আসছেন। এ নিয়ে কিছু কথা কাটাকাটি হয়েছে। তবে তার ওপর হামলা করা হয়নি।
সাংবাদিকের ছোট বোন পারভীন আক্তার বলেন, আমার ভাই ছাত্রজীবনে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি যাদুরচর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক তিনটি কমিটিতে প্রচার সম্পাদক, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও সহসভাপতির পদেও ছিলেন। অত্র এলাকার নানা অপকর্ম ফাঁস করায় আমার ভাই সাংবাদিক আনিছুর রহমানের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে তারা।
এ বিষয়ে পিআইবি জার্নালিজম অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আইনজীবী ও সাংবাদিক রুহি সামশাদ আরা বলেন, সাংবাদিক আনিছুর রহমানের ওপর হামলাকারীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। না হলে এলাকায় মাদকসহ অপরাধীদের দৌরাত্ম্য আরো বেড়ে যাবে।
রৌমারী প্রেস ক্লাবের সভাপতি সুজাউল ইসলাম সুজা বলেন, সাংবাদিক আনিছুর রহমানের ওপর যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।


















