মোঃ সোহাগ হোসেন সংবাদদাতা :
দৈনিক যশোর বার্তা পত্রিকা ও বাংলা ভয়েজ অনলাইন পত্রিকায় (কলারোয়ায় কৃষি জমি ও আমবাগানের পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটা: কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব) এই শিরোনামে দুই দফা সংবাদ প্রকাশ হলেও বহাল তবিয়তে চলছে রাকিন ব্রিকস নামক অবৈধ ইটভাটা। ইট’ভাটার মালিক সাইফুল ইসলাম ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহলে দোড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। প্রভাবশালী হওয়ায় টাকার বিনিময়ে অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করে দিনের পর দিন অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা করে আসছেন তিনি।
সরকারি নিয়ম-নীতির কোনো রকম তোয়াক্কা না করেই কলারোয়া উপজেলার ইলিশপুর গ্রামে যত্রতত্র গড়ে উঠছে রাকিন ব্রিকস নামে অবৈধ ইটভাটা। মুনাফালোভী সাইফুল ইসলাম নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি এই ইটভাটা গড়ে তুলছেন বলে জানা গেছে। এতে চরম হুমকিতে পড়েছে কৃষি জমি, আমবাগান, আমের মুকুল, বিভিন্ন ফসল, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য।
জনবসতিপূর্ণ এলাকা, আমবাগান ফসলি জমিতে এই ইটভাটা গড়ে উঠায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরকারি অনুমোদন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধ এসব ইটভাটার কার্যক্রম চলে আসায় ভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া, গ্যাস ও ধুলায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকার লোকজন। এ অবস্থায় জনস্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখীন হওয়াসহ হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র্য। বিনষ্ট হচ্ছে প্রকৃতি ও পরিবেশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ ইটভাটায় অবাধে পরিচালিত হয়ে আসলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন এসব অনিয়ম দেখেও না দেখার ভান করে বসে আছে।
এদিকে ইটভাটার জন্য লাইসেন্স বাধ্যতামূলক, নির্দিষ্ট এলাকায় ইটভাটার জায়গা ও ভাটার সংখ্যা নির্ধারণ, লাইসেন্সবিহীন ইটভাটা চালালে দুই বছরের জেল ও ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান সংযোজন করে ২০১৩ সালের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনে সংশোধনী এনে ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন আইন, ২০১৯ বিল সংসদে পাস করা হয়। নতুন এ আইনের ধারা-৪ এ সংশোধন এনে বলা হয়েছে, আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ইটভাটা যে জেলায় অবস্থিত সেই জেলার জেলা প্রশাসকের নিকট থেকে লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতিরেকে কোনো ব্যক্তি ইট প্রস্তুত করতে পারবে না। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সাতক্ষীরা ইটাগাছি এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম নামক এক প্রভাবশালী কলারোয়া উপজেলার ইলিশপুর গ্রামে সাতক্ষীরা- যশোর মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে ইটভাটা স্থাপন করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। আমবাগান, ও কৃষি জমির পাশে এ ইটভাটাটি পরিচালিত হওয়ায় আমের মুকুল পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি এবং স্থানীয় পরিবেশ ও জলবায়ু দূষণের ফলে জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।
রাকিন (ব্রিকস) ইটভাটা সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বসতবাড়ির পাশে ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় আমরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছি। ধোঁয়ার কারণে গাছের ফল-ফলাদিও কমে গেছে।
রাকিন ব্রিকস ইটভাটা’র ম্যানেজার হান্নান আলীর কাছে ইটভাটা পরিচালনা করতে যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগে সেগুলো আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি কাগজ পত্রের বিষয়ে কিছু জানিনা। ইটভাটা মালিক সাইফুল ইসলাম জানেন।
রাকিন ব্রিকস এর মালিক মোঃ সাইফুল ইসলামের কাছে একাধিক বার ফোন দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কৃষি জমি, জনবসতিপূর্ণ এলাকা, ও আমবাগানের পাশে কিভাবে ইটভাটা গড়ে উঠেছে তা জানতে চাইলে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কৃষ্ণরায় বলেন, আমি খোঁজখবর নিয়ে আইন অমান্য করে অবৈধভাবে ইটভাটা গড়ে তোলা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এ বিষয় সাতক্ষীরা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম জানান, রাকিন ব্রিকস (ইটভাটার) কারণে কৃষকের ফসল, আমবাগান ও আমের মুকুলের ক্ষতি হচ্ছে আমরা জানতে পেরে অভিযান পরিচালনা করার প্রস্তুতি নিয়েছি। দুই এক দিনের মধ্যে ওই ইটভাটা বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।


















