বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতিতে রুহুল কবির রিজভীকে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও আপসহীন নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাজপথের আন্দোলন থেকে শুরু করে কারাবন্দি নেতাকর্মীদের পাশে থাকা—দলের জন্য দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা ত্যাগের নজির রয়েছে তার। তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ছয়বার দলীয় মনোনয়ন চেয়েও পাননি তিনি। তারপরও এ নিয়ে তার কোনো ক্ষোভ বা আক্ষেপ নেই।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক জীবনের নানা না-পাওয়ার কথা তুলে ধরেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী। তিনি জানান, ১৯৯১ সাল ছাড়া ১৯৯৬ সাল থেকে প্রতিটি সংসদ নির্বাচনেই দলের কাছে মনোনয়ন চেয়েছেন। তবে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন চাননি।
এর কারণ হিসেবে রিজভী বলেন, সে সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে ছিলেন। তার ভাষায়, ‘বেগম খালেদা জিয়া জেলখানায় থাকা অবস্থায় আমি নির্বাচন করব না—এটা ছিল আমার একটা কমিটমেন্ট ও ব্রত। উনি যদি নির্বাচন করতে না পারেন, তবে আমিও করব না।’
দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও রাজনৈতিক অবস্থান থাকা সত্ত্বেও মনোনয়ন না পাওয়ার পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে কখনো ধরনা দেননি বলেও জানান রিজভী। তিনি বলেন, তার রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড অনুযায়ী সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য আরও কিছু করতে পারতেন, মন খারাপও করতে পারতেন। কিন্তু দলের কোনো নেতার কাছে গিয়ে মনোনয়নের জন্য অনুরোধ করেননি।
রিজভীর ভাষায়, ‘দল যখন সিদ্ধান্ত দেয়নি, তখন নিঃসন্দেহে তাদের বিবেচনাধীন সময়ে আমাকে তারা উপযুক্ত মনে করেননি।’
রুহুল কবির রিজভীর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে। ১৯৮৪ সালে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। ১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্ররাজনীতির সেই সময় থেকে শুরু করে চার দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন রিজভী। ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, ২০১৮ সাল থেকে ২০২০ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত টানা ৭৮৭ দিন পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করে দলের কার্যক্রম সচল রাখতে ভূমিকা রাখেন তিনি।
সূত্রটি আরও জানায়, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের পর বিএনপির অনেক শীর্ষ নেতা আত্মগোপনে চলে গেলেও রিজভী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার মধ্যেও ঝটিকা মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন।
এ ছাড়া এক-এগারোর সেনাসমর্থিত সরকার থেকে শুরু করে গত দুই দশকে বিভিন্ন সময়ে রিজভীর বিরুদ্ধে আড়াই শতাধিক মামলা হয়েছে বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে। একই সময়ে তিনি নয়বার কারাবরণ করেছেন বলেও সূত্রটির দাবি।
দলের মনোনয়ন না পাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মামলা, কারাবরণ ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও বিএনপির প্রতি নিজের আনুগত্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি—এমনটাই উঠে এসেছে রিজভীর বক্তব্যে।


















