ঝালকাঠি সংবাদদাতা :
ঝালকাঠির নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ফেসবুকে তার নামে কথিত অডিও ক্লিপ ও বিভিন্ন পোস্ট ভাইরাল হলেও, সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জানা গেছে, মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা এর আগে সিআইডির সদর দপ্তর, মালিবাগে পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সম্প্রতি তাকে ঝালকাঠি জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, র্যাব, ট্যুরিস্ট পুলিশ, এসপিবিএন, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফেনী জেলা পুলিশ, পুলিশ সদর দপ্তর এবং পুলিশের বিশেষ শাখায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের সদস্য হিসেবে হাইতিতেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
সম্প্রতি তার যোগদানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কথিত আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। তবে ওই অডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি—এমন দাবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এলেও, এর পক্ষেও কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এছাড়া তার অতীত কর্মস্থল ও দায়িত্ব পালনের সময়কার বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে একাধিক পোস্ট প্রচার করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে সরকারি কোনো নথি, আদালতের রায় বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা বলেন, “আমি সবসময় আইন, সংবিধান ও পেশাগত নীতিমালা মেনে দায়িত্ব পালন করেছি। সততা ও জনসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার সুনাম ক্ষুণ্নের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি সত্য একদিন প্রতিষ্ঠিত হবে। ঝালকাঠিবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জনবান্ধব পুলিশিং বাস্তবায়নে আমি আন্তরিকভাবে কাজ করে যাব।”
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অডিও ক্লিপ ও বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল বা বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়গুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণভিত্তিক মূল্যায়ন প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

















