মোবাশ্বের নেছারী, কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা :
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ভুন্দুরচর-ইজলামারী সীমান্তের শূন্যরেখায় টানা ১৭ দিন মানবেতর জীবন কাটানোর পর হঠাৎ করেই উধাও হয়ে গেছেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর পুশইনের শিকার তিন যুবক।
বুধবার (১ জুলাই) ভোর থেকে সীমান্তের শূন্যরেখায় তাদের আর দেখা যায়নি। তারা কোথায় গেছেন, কীভাবে সেখান থেকে সরে গেলেন কিংবা কেউ সরিয়ে নিয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৪ জুন বিএসএফ রৌমারীর গয়টাপাড়া ও ভুন্দুরচর (ইজলামারী) সীমান্ত দিয়ে দুই শিশুসহ মোট নয়জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায়। তবে বিজিবি ও স্থানীয় সীমান্তবাসীর কড়া অবস্থানের মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পেরে দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় অবস্থান নিতে বাধ্য হন।
পরে পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে দুই শিশুসহ ছয়জনকে তাদের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় তিন যুবককে শূন্যরেখাতেই অবস্থান করতে হয়। গত ১৭ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন।
রৌমারী সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রুহুল আমিন জানান, বুধবার সকালে তিন যুবকের খোঁজ নিতে সীমান্তে গিয়ে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। সীমান্তের শূন্যরেখা ছিল সম্পূর্ণ ফাঁকা। এমনকি ওই এলাকায় বিএসএফের টহলও দেখা যায়নি।
জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, “বুধবার ভোর থেকে তিন যুবককে আর শূন্যরেখায় দেখা যাচ্ছে না। তারা স্বেচ্ছায় চলে গেছেন, নাকি অন্য কোনোভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং বিজিবির অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, সীমান্তে নতুন করে কোনো পুশইনের চেষ্টা ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সীমান্তজুড়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন রৌমারীর গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে ছয়জন এবং ভুন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে তিনজনসহ মোট নয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়। দীর্ঘ ১৭ দিন পর তিন যুবকের রহস্যজনক অন্তর্ধানে সীমান্তজুড়ে নতুন করে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।


















