দেশের উচ্চশিক্ষাকে কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ কয়েকটি বিষয়ে পৃথক অনার্স কোর্স বাতিল করে সেগুলো অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার পরিধি বাড়িয়ে পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার সিকিউরিটি, আউটসোর্সিংসহ বিভিন্ন দক্ষতাভিত্তিক বিষয়।
নতুন পরিকল্পনায় কলেজ পর্যায়ে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপন এবং সাতটি বিদেশি ভাষা শিক্ষার সুযোগ রাখা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে এবং সবার মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, সরকার সনদনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে দক্ষতা, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। তিনি বলেন, শুধু ডিগ্রি নয়, দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ তৈরিই হবে নতুন শিক্ষানীতির মূল লক্ষ্য।
এদিকে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়সংখ্যা এবং পরীক্ষার সময়সীমা কমানোর পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় পরীক্ষা চলায় পাঠদান ব্যাহত হওয়া ও শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়ায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকার ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা করেছে। এতে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বিষয় যুক্ত হবে। পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেছেন, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানমুখী করে তুলতে উচ্চশিক্ষায় ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

















