মোহাম্মদ শাহ এমরান, টেকনাফ (কক্সবাজার)
সীমান্ত নিরাপত্তায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার টহল বৃদ্ধির পাশাপাশি ঘুমধুম সীমান্তের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নিরাপত্তা চৌকিগুলোতে আর কে-৩ কোর্সার অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (এটিজিএম) মোতায়েন করা হয়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিজিবির ঘুমধুম সীমান্তে মিয়ানমার অভ্যন্তরে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। গুলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণের কারনে এই অত্যাধুনিক অস্ত্রটি মোতায়েন করা হয়। চৌকিসহ আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এটিজিএম মোতায়েন করা হয়েছে। এটিজিএম হলো ইউক্রেনের তৈরি হালকা বহনযোগ্য ট্যাঙ্কবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র। এটি দিয়ে স্থির ও চলমান সাঁজোয়া যান এমনকি হেলিকপ্টারেও আক্রমণ করা যায়। ২০০০ সালে ইউক্রেনে এই অস্ত্রটি তৈরি হয়। সীমান্তে অত্যাধুনিক এই অস্ত্রটি মোতায়েনে সীমান্ত সুরক্ষা ও নিরাপত্তার পাশাপাশি বিজিবির আধুনিকায়নে আরও এক ধাপ উন্নতি হলো।
৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মাশরুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সম্প্রতি ঘুমধুম সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির সংঘর্ষে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি মর্টারশেল ও গুলি এসে বাংলাদেশে পড়ে।
এতে দুজন নিহত ও চারজন আহত হয়। সীমান্তের ওপারে হেলিকপ্টার থেকেও ব্যাপক গুলি ও বোমা বর্ষণ করা হয়। এসব বিষয় নিয়ে বিজিবি কড়া প্রতিবাদও জানায়। তুমব্রু সীমান্তে গতকাল সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা সীমান্ত থেকে পাওয়া দুটি রকেট লাঞ্চার বোম নিষ্ক্রিয় করেছে। বিকট শব্দে এগুলো বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়। এসময় সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
পালিয়ে বিজিপি ৩৩০ জন সদস্যের হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৬৪ বিজিপির সদস্য নিরাপদ আশ্রয় রাখা হয়েছে, নিরাপত্তার জন্য হ্নীলা আদর্শ সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ও হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয় দুইটি স্কুল বন্ধ রাখা হয়। বাকি গুলো ঘুমধুম সীমান্তের উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৬০ বিজিপি সদস্যকে রাখা হয়।
অন্যান্য গুলো চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে দুয়েক দিনের মধ্যে ঘুমধুম সীমান্তের উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৬০ বিজিপি সদস্যদের কে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানা যায়।
এলাকার প্রতিনিধিরা জানান গুলাগুলির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেলে সকল স্কুলগুলো খুলে দেওয়া হবে নিশ্চিত করেন।


















