মোবাশ্বের নেছারী, কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা :
কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় বিষধর সাপের কামড়ে আব্দুল মোতালেব (৬৭) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। সাপের কামড়ের পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে তাকে গ্রাম্য কবিরাজ দিয়ে ঝাড়ফুঁক করানো হয়। এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ায় শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মরিচাকান্দি জালচিরা বাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল মোতালেব ওই এলাকার মৃত কেতু শেখের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে বাড়ি ফেরার পথে নিজবাড়ির অদূরে অন্ধকার রাস্তায় হাঁটার সময় একটি বিষধর সাপ তাকে কামড় দেয়। প্রথমে তিনি বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব না দিয়ে বাড়িতে চলে যান। কিছুক্ষণ পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান।
তবে হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে স্বজনরা তাকে স্থানীয় এক কবিরাজের কাছে নিয়ে ঝাড়ফুঁক করান। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তার অবস্থার আরও অবনতি হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পথেই তার মৃত্যু হয়।
রাজিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরন মো. ইলিয়াস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সাপে কাটার পর ওই ব্যক্তিকে প্রথমে গ্রাম্য কবিরাজ দিয়ে ঝাড়ফুঁক করানো হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।”
চিকিৎসকরা বলছেন, বিষধর সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ।
এমন পরিস্থিতিতে ঝাড়ফুঁক বা কুসংস্কারের ওপর নির্ভর না করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব। অথচ সচেতনতার অভাব ও কুসংস্কারের কারণে এখনও দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু ঘটছে।

















