মো. পারভেজ সরকার, রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা :
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলজোড় নদীর পশ্চিম পাড় এলাকায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বার্মিজ ছুরি ও চাপাতি দিয়ে হামলার ঘটনায় আহত এইচএসসি পরীক্ষার্থী আব্দুর রহমান (২০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
তাঁর বড় ভাই মো. হাসান গুরুতর আহত হয়ে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুর রহমানের মৃত্যু হয়। তিনি স্থানীয় বস্তা ব্যবসায়ী মো. ফিরোজের ছেলে। রায়গঞ্জ বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, গত মঙ্গলবার রাতে এলাকায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. তারা শেখের ছেলে টিটোনের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে টিটোন বার্মিজ ছুরি ও চাপাতি দিয়ে আব্দুর রহমান ও তাঁর বড় ভাই মো. হাসানের ওপর হামলা চালান। এতে দুই ভাই গুরুতর আহত হন।
স্বজনরা জানান, আহতদের প্রথমে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে আব্দুর রহমানের অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরে ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তাঁর একটি হাত কেটে ফেললেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে মো. হাসান এখনো শজিমেক হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
আব্দুর রহমানের সহপাঠী রেজুয়ান হাসান সিফাত, সিমান্ত তালুকদার ও শৌরভ হাসান বলেন, আব্দুর রহমান শান্ত, ভদ্র ও মেধাবী একজন শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর এমন মৃত্যু আমাদের মর্মাহত করেছে। আমরা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
অভিযুক্ত টিটোন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পলাতক থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


















