মোবাশ্বের নেছারী, কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা :
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতুর দুই প্রান্তের সংযোগ সড়ক ধসে পড়ায় চরম দুর্ভোগ ও ঝুঁকিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। প্রয়োজনীয় রিটার্নিং ওয়াল ও মাটি ভরাটের কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই প্রকল্প শেষ করার অভিযোগ উঠেছে।
কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সড়কের বড় অংশ ধসে গভীর খাদ সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয়রা। ইতোমধ্যে এক বৃদ্ধ গুরুতর আহত হয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ি গ্রামের খালের ওপর নির্মিত ৯৬ মিটার দীর্ঘ সেতুর দুই প্রান্তের সংযোগ সড়কের বড় অংশ ধসে গেছে। ফলে সেতুর মুখে সৃষ্টি হয়েছে গভীর খাদ। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, অটোভ্যানসহ ছোট যানবাহন এবং পথচারীরা চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। সামান্য অসাবধানতাই বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে জামালপুরের এমইএম এন্টারপ্রাইজ সেতুটি নির্মাণ করলেও সংযোগ সড়কে প্রয়োজনীয় মাটি ভরাট ও দুই পাশে রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণ না করেই কাজ শেষ দেখানো হয়। সাম্প্রতিক টানা বর্ষণে পানির প্রবল স্রোতে সড়ক ধসে পড়ার পর নির্মাণকাজের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মফিজুল হক বলেন, “সেতু হয়েছে, কিন্তু রাস্তা হয়নি। মানুষ প্রতিদিন মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। দ্রুত সংস্কার না হলে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত সপ্তাহে এক বৃদ্ধ ধসে যাওয়া অংশে পড়ে পা ও কোমরে গুরুতর আঘাত পান। এরপরও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটিতে স্থায়ী সংস্কার কিংবা কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জমির মালিকদের জটিলতার কারণে সেতুর দুই পাশে রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং ঠিকাদারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে উপজেলা প্রকৌশলী সৌরভ কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রকৌশলীকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর সংযোগ সড়ক যদি প্রথম বর্ষাতেই ধসে পড়ে, তাহলে নির্মাণকাজের মান ও তদারকির দায়িত্ব কার? তাদের দাবি, শুধু সংস্কার নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম হয়ে থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় যে কোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।


















