ঝালকাঠি সংবাদদাতা :
ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তার পদত্যাগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ফাতিমা তাসনিম জুমার পদত্যাগের ঘোষণার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
সম্প্রতি দেওয়া এক ঘোষণায় তারা জানান, প্রতিষ্ঠাতা শরীফ ওসমান বিন হাদির ‘ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে’ তারা দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।
তবে এ বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন নিহত শরীফ ওসমান বিন হাদির বোন মাসুমা হাদি। বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৪৯ মিনিটে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আইন অনুযায়ী আমার ভাইয়ের উত্তরাধিকারী আমার মা, ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তান। তাহলে এই তিনজনের মধ্যে কে সেন্টার দাবি করছে?”
মাসুমা হাদি দাবি করেন, ভাইয়ের মৃত্যুর পর বিভিন্ন ইস্যু সামনে এনে তাকে এবং তার পরিবারকে বিতর্কের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের কোনো পদ-পদবি তার প্রয়োজন নেই। তিনি শুধু ভাইয়ের অসমাপ্ত কিছু কাজ—কবর স্থায়ীকরণ, শহীদ হিসেবে গেজেটভুক্তিসহ কয়েকটি বিষয়ে ভূমিকা রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শুরু থেকেই এ বিষয়ে তার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি।
তিনি আরও জানান, কোরবানির ঈদের সময় সেন্টারের তিনজন প্রতিনিধি তার সঙ্গে দেখা করে ফিরে আসার অনুরোধ জানালেও তিনি তাতে সাড়া দেননি। তার ভাষায়, “আমার হারানোর আর কিছুই নেই। তোমরা শুধু ওসমান গণির আদর্শ ধরে রাখো।”
হঠাৎ পদত্যাগের ঘটনায় তিনি ‘দুরভীসন্ধির’ আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, “পরিবারের ওপর দায় চাপিয়ে পদত্যাগ কেন? কাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন হচ্ছে?”
মাসুমা হাদি বলেন, ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার কোনো একক ব্যক্তির সম্পত্তি নয়; এটি জনগণের অর্থায়নে গড়ে ওঠা একটি প্রতিষ্ঠান। এটিকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, “ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারকে ধ্বংসের মিশন কোনোভাবেই বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। আমার ভাই বলেছিলেন, জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করলে সে আপন নয়। আমি যোগ করছি, আমার ভাইয়ের সঙ্গে যারা গাদ্দারি করবে, সে যেই হোক, আমার কাছে সে কিছুই না।”


















