গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে সেনাবাহিনীর কিছু সদস্যকে ব্যবহার করে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সার্বভৌমত্বকে অরক্ষিত করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান।
রোববার (১৭ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। এদিন র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে তার জেরা শেষ হয়।
ব্যারিস্টার আরমান বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী হলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব বজায় থাকলেই দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত থাকবে। কিন্তু গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে সেনাবাহিনীর কিছু সদস্যকে ব্যবহার করে শেখ হাসিনা সেই পেশাদারিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। এর মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্বও ঝুঁকির মুখে পড়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো ক্ষমতাধর দল জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, সে সংস্কৃতি আর ফিরে আসুক—তা দেশবাসী চায় না।
গুমের ঘটনায় নির্যাতনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আরমান বলেন, গুমে থাকা ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতনের ধরন ভিন্ন হলেও বিনা দোষে কাউকে ২৪ ঘণ্টার বেশি আটকে রাখা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। আর যখন তা ব্যাপক ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সংঘটিত হয়, তখন সেটি মানবতাবিরোধী অপরাধে পরিণত হয়। তিনি বলেন, নির্যাতনের মাত্রা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে হয়েছিল কিনা—সেটিই মূল বিষয়।
বর্তমান সরকারের ওপর আস্থা প্রকাশ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজেও অতীতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও গুমের ভুক্তভোগী ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিকাংশ সদস্যই কোনো না কোনোভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। তাই সরকার এ বিচার নিশ্চিত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে শাহ আলী মাজারে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে ব্যারিস্টার আরমান বলেন, ধর্মীয় গাম্ভীর্যের স্থানে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সব ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব, আর এ জায়গায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে আপত্তি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ঢালাওভাবে বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপানো ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির অংশ, যার পুনরাবৃত্তি দেশবাসী দেখতে চায় না।


















