পাবেল হাসান, দিরাই (সিলেট) সংবাদদাতা :
দিরাইয়ে দীর্ঘদিনের যানজট ও বিশৃঙ্খলার চিত্র যেন আর বদলাচ্ছে না-সরকার বদলায়, কিন্তু ভোগান্তি থেকে যায়। ২০২৫ সালের পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার প্রথম দিনেই এর নির্মম চিত্র ফুটে উঠেছে।
বিশেষ করে দিরাই উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রকে ঘিরে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট, যেখানে চরম দুর্ভোগে পড়েন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকালে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শত শত পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক কেন্দ্রে ভিড় করেন। এতে হাইস্কুল রোডে যানবাহনের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ সময়েও অবাধে চলাচল করে অবৈধ ট্রলি। ইট-বালি বোঝাই এসব ট্রলি বিকট শব্দে চলতে থাকায় মুহূর্তেই পুরো সড়ক অচল হয়ে পড়ে।
যানজটে আটকে পড়ে পরীক্ষার্থীদের বহনকারী রিকশা, ইজিবাইক ও সিএনজি। অনেক শিক্ষার্থীকে বাধ্য হয়ে হেঁটে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে দেখা যায়। এতে স্বাভাবিকভাবেই তাদের মধ্যে তৈরি হয় উদ্বেগ ও মানসিক চাপ।
অভিভাবকদের অভিযোগ, শহরের ভেতরে ট্রলি চলাচলের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা থাকলেও চালকরা তা মানছেন না। প্রশাসনের তদারকির অভাবেই এই বিশৃঙ্খলা চলছে বলে তাদের দাবি।
এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আজ শত শত শিশুর পরীক্ষা এটা কি প্রশাসন জানত না? তাহলে কেন আগে থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলো না? ট্রলির কারণে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, দায় নেবে কে?”
শুধু যানজটই নয়, ট্রলির তীব্র শব্দদূষণেও ব্যাহত হচ্ছে পরীক্ষার পরিবেশ। পরীক্ষা চলাকালে এমন উচ্চশব্দে ভারী যানবাহন চলাচল কতটা বৈধ—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।
স্থানীয়দের মতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবেই দিরাইয়ের এই চিত্র দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। এদিকে, সামনে এসএসসি পরীক্ষা। বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি না হলে পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দিরাইবাসী দ্রুত অবৈধ ট্রলি চলাচল বন্ধ, যানজট নিরসন এবং পরীক্ষার সময় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।


















