টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে কৃষক কার্ড পাওয়া কবির হোসেনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় ও বিতর্কের সৃষ্টি হলেও মাঠ পর্যায়ের তদন্তে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের বক্তব্যে তাকে একজন প্রকৃত প্রান্তিক কৃষক হিসেবেই পাওয়া গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের উত্তর তারুটিয়া এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে কবির হোসেনের বাড়ি ও কৃষি কার্যক্রম পরিদর্শন করা হয়। স্থানীয়রা জানান, কবির হোসেন দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে বড়। তার বাবা কৃষিকাজ করে সন্তানদের বড় করেছেন, আর সেই ধারাবাহিকতায় তিনিও কৃষির ওপর নির্ভরশীল।
কবির হোসেনের পরিবারে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। কৃষিকাজ করেই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন এবং ছেলে এসএসসি পাসের পর জীবিকার তাগিদে বিদেশে পাঠিয়েছেন, যদিও এখনো সেখানে স্থায়ী কাজ জোটেনি।
গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল্যা খান জানান, কবির হোসেনের একটি গরুর খামার রয়েছে। নিজস্ব জমি কম থাকলেও সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৬০০ ডেসিমাল জমিতে চাষাবাদ করেন। পাশাপাশি বসতভিটায় সবজি উৎপাদনও করেন তিনি।
স্থানীয় কৃষক শফিক তালুকদার বলেন, “কবির হোসেনের পরিবার একসময় সচ্ছল ছিল, তবে উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি ভাগ হয়ে জমির পরিমাণ কমে গেছে। এখন তিনি নিজ পরিশ্রমেই কৃষিকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।”
কবির হোসেন নিজেও দাবি করেন, তিনি একজন প্রান্তিক কৃষক এবং তার পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম কৃষির সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে কৃষক কার্ড নেওয়ার সময় আমার বক্তব্যের পরই বিভ্রান্তি ছড়ায়। আমি কৃষির পাশাপাশি ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করি, সেখানে কখনো এআই ব্যবহার করি—এটা নিয়েই ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।”
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম জানান, “সরেজমিন তদন্তে আমরা কবির হোসেনকে প্রকৃত কৃষক হিসেবে পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।”
এছাড়া জেলা তথ্য অফিস জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে গুজব ছড়ালেও যাচাই-বাছাই ও স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী কবির হোসেন একজন প্রান্তিক কৃষক। সব মিলিয়ে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিতর্কের বিপরীতে মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতায় কবির হোসেনের কৃষক পরিচয়ই নিশ্চিত হয়েছে।


















